মোদী-ট্রাম্প বৈঠকে চিনের কপালে চিন্তার ভাঁজ

ওয়াশিংটন ডিসিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (China on Modi-Trump Meeting) মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকে দুই দেশের…

China's Worries Deepen After Modi-Trump Meeting

ওয়াশিংটন ডিসিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (China on Modi-Trump Meeting) মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সরঞ্জাম কেনাকাটার বিষয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বোঝাপড়া হয়। এর মধ্যে, ভারতকে অত্যাধুনিক এফ ৩৫ যুদ্ধবিমান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আমেরিকা। ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত ভারতের সামরিক শক্তি আরও বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে। তবে এই বৈঠকের সময় চিনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, যা নিয়ে বেজিংয়ের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া এসেছে।

চিনের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত সমস্যা দীর্ঘকাল ধরে চলতে থাকা একটি বিষয়। ২০১৭ সালে, ট্রাম্প যখন প্রথম প্রেসিডেন্ট হন, তখন তিনি চিনের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত সমস্যা মেটানোর জন্য কিছু প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এই প্রস্তাবের মধ্যে, ভারতের সীমান্ত সমস্যা মেটাতে মার্কিন সহায়তার কথা ছিল। তবে ভারত সরকার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, তাদের সীমান্ত সমস্যা তারা নিজেরাই সমাধান করতে সক্ষম।

   

মোদী এবং ট্রাম্পের বৈঠকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একাধিকবার, চিনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ট্রাম্প এবং মোদী একযোগে চিনের সামরিক কার্যক্রম এবং তাদের ভূরাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে কথা বলেছেন। ট্রাম্পের সঙ্গে সাংবাদিক বৈঠকে, মোদী বলেছেন যে, ভারত এবং আমেরিকা একে অপরের বন্ধু। দু’দেশের সহযোগিতার মাধ্যমে সমাধান করা যাবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সমস্যা।

Advertisements

বৈঠকের পর, ট্রাম্প এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমরা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চাই।’ একইসঙ্গে তিনি কোয়ড অংশীদারিত্বের কথা উল্লেখ করেন। কোয়ড, ভারত, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকার একটি সহযোগিতা প্ল্যাটফর্ম। ট্রাম্প বলেন, ‘এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কোয়ড অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করা হবে।’

চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কখনও তৃতীয় কোনো দেশকে নিশানা করা উচিত নয়। এইভাবে ব্লক ভিত্তিক রাজনীতি এবং সংঘাতের আবহাওয়া তৈরি করা উচিত নয়।’ গুয়ো আরও বলেন, ‘এশিয়া-প্যাসিফিকের শান্তিরক্ষা অবিচল থাকা উচিত এবং এটি ভূরাজনৈতিক খেলার জায়গা নয়।’

এদিকে, ভারতকে এফ ৩৫ যুদ্ধবিমান দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বলেছেন, ‘দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ও সহযোগিতায় চিনকে কোনো ইস্যু করা উচিত নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এভাবে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি করা অগ্রহণযোগ্য।’ 

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের বিষয়েও ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘চিন একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ এবং আমি মনে করি, তারা ইউক্রেন এবং রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সাহায্য করতে পারে।’