প্রজাতন্ত্রের আগেই ভারত নিয়ে পাকিস্তানকে সতর্ক করল চীন

চীন পাকিস্তানকে সতর্ক করে দিয়েছে (China)যে জম্মু-কাশ্মীরে ভারতের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কোনো আক্রমণ চালালে ভারত পাকিস্তানের বড় বড় বাঁধ যেমন তরবেলা এবং দিয়ামের-বাশা-কে লক্ষ্য করে প্রত্যাঘাত…

china-warns-pakistan-over-india-hydropower-projects

চীন পাকিস্তানকে সতর্ক করে দিয়েছে (China)যে জম্মু-কাশ্মীরে ভারতের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কোনো আক্রমণ চালালে ভারত পাকিস্তানের বড় বড় বাঁধ যেমন তরবেলা এবং দিয়ামের-বাশা-কে লক্ষ্য করে প্রত্যাঘাত করতে পারে। চীনের এই সতর্কবার্তা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, চীন পাকিস্তানকে বলেছে যে এ ধরনের পদক্ষেপ ভারতের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া ডেকে আনতে পারে।

Advertisements

কারণ ভারত ইতিমধ্যেই এমন বিশেষ অস্ত্রশস্ত্র সক্রিয় করেছে যা বাঁধের মতো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।এই সতর্কতা আসছে এমন এক সময়ে যখন ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে ইন্ডাস ওয়াটার ট্রিটি নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। ২০২৫ সালে ভারত পহেলগাঁওয়ে একটি জঙ্গি হামলার পর ইন্ডাস ওয়াটার ট্রিটি সাসপেন্ড করার ঘোষণা দেয়।

   

কেরালা ব্লাস্টার্সে যোগদান করে কী বললেন রোলিন?

এরপর ভারত জম্মু-কাশ্মীরে চেনাব এবং জেলিয়াম নদীর ওপর নতুন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শুরু করে। পাকিস্তান এটাকে যুদ্ধের হুমকি বলে দেখছে এবং বলছে যে জল প্রবাহ বন্ধ করা হলে তা ‘অ্যাক্ট অফ ওয়ার’ হবে। পাকিস্তানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিটি এবং আইএসপিআর-এর পক্ষ থেকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে ভারত যদি জল বন্ধ করে, তাহলে পাকিস্তান প্রত্যাঘাত করবে।

এই প্রেক্ষাপটে চীনের সতর্কতা পাকিস্তানকে সংযত থাকার পরামর্শ দিয়েছে।চীনের এই অবস্থান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ কারণ চীন পাকিস্তানের দিয়ামের-বাশা বাঁধের মতো বড় প্রকল্পে অর্থায়ন ও প্রযুক্তি দিচ্ছে। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের জল বন্ধের হুমকির পর চীন দিয়ামের-বাশা প্রকল্পের কাজ ত্বরান্বিত করার ঘোষণা দিয়েছে। চীনের দৃষ্টিতে এই বাঁধগুলো পাকিস্তানের জল নিরাপত্তা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তাই ভারত যদি পাকিস্তানের বাঁধে আক্রমণ করে, তাহলে চীনের স্বার্থও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। চীন পাকিস্তানকে বলেছে যে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে আক্রমণ করলে ভারতের প্রত্যাঘাতের সম্ভাবনা খুবই বেশি, কারণ ভারত এখন বিশেষ মিসাইল ও মিউনিশন সক্রিয় করেছে যা বাঁধের মতো লক্ষ্যবস্তুতে সঠিক আঘাত হানতে পারে।ভারতের পক্ষ থেকে এখনও এই সতর্কতার ওপর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি, কিন্তু সূত্র বলছে যে ভারত তার জল নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো রক্ষার জন্য প্রস্তুত।

ইন্ডাস ওয়াটার ট্রিটির সাসপেনশনের পর ভারত দুলহাস্তি স্টেজ-২ এবং অন্যান্য প্রকল্পে কাজ ত্বরান্বিত করেছে। এতে পাকিস্তানের কৃষি ও বিদ্যুৎ খাতে প্রভাব পড়তে পারে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে তারা যুদ্ধ চায় না, কিন্তু জলের অধিকার রক্ষায় তারা পিছু হটবে না।এই পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ায় একটা নতুন জলযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

চীনের ভূমিকা এখানে গুরুত্বপূর্ণ কারণ চীন ব্রহ্মপুত্র নদীতে নিজের বাঁধ নির্মাণ করে ভারতকে চাপে রাখছে, আর পাকিস্তানে বাঁধ নির্মাণ করে পাকিস্তানকে সমর্থন দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা শুধু ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক বিষয় নয় এতে চীনের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত। যদি কোনো আক্রমণ হয়, তাহলে তা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকিতে ফেলবে।

Advertisements