ডিএমকের বিরুদ্ধে ঋণ নিয়ে অভিযোগ, জবাব দিলেন পি চিদাম্বরম

কংগ্রেস নেতা প্রবীন চক্রবর্তীর তামিলনাড়ুর ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য, যাতে তিনি রাজ্যটিকে উত্তরপ্রদেশের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন, সম্প্রতি তার নিজের দল থেকে তীব্র সমালোচনার শিকার হয়েছে।…

Chidambaram Slams Debt Assessment, Defends DMK’s Record in Tamil Nadu

কংগ্রেস নেতা প্রবীন চক্রবর্তীর তামিলনাড়ুর ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য, যাতে তিনি রাজ্যটিকে উত্তরপ্রদেশের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন, সম্প্রতি তার নিজের দল থেকে তীব্র সমালোচনার শিকার হয়েছে। কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম (P Chidambaram) চক্রবর্তীর এই মূল্যায়নকে ভুল বলে মন্তব্য করেছেন এবং জানিয়েছেন যে, ঋণের বার্ষিক বৃদ্ধি একটি স্বাভাবিক ঘটনা।

Advertisements

চিদাম্বরম তার বক্তব্যে বলেন, “একটি রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থাকে শুধুমাত্র তার মোট ঋণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা ভুল। বিশ্বে সমস্ত উন্নত দেশগুলির ঋণ – যেমন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, ফ্রান্স এবং কানাডা – প্রতি বছর বৃদ্ধি পায়।” তিনি আরও বলেন, “ভারতের মোট ঋণ এবং রাজ্যগুলির সম্মিলিত ঋণও প্রতি বছর বৃদ্ধি পায়। তামিলনাড়ুর ঋণ সবচেয়ে বেশি হলেও, এটি অতিরিক্ত কিছু নয়। এর মানে এই নয় যে, রাজ্যের অর্থনীতি বিপর্যস্ত।” প্রতিবছর ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি কিছুটা সাধারণ হলেও, কংগ্রেস নেতা প্রভীন চক্রবর্তীর বক্তব্য থেকে মনে হয়েছে, তিনি তামিলনাড়ুর ঋণের বোঝা নিয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন ছিলেন। চিদাম্বরম বলেছেন, তামিলনাড়ুর ঋণের পরিমাণ দেশের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় বেশি, কিন্তু এটি এই রাজ্যের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্যের প্রকৃত চিত্র প্রদান করে না। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, ২০১০ সালে তামিলনাড়ুর ঋণ উত্তরপ্রদেশের তুলনায় অনেক কম ছিল, তবে এখন তামিলনাড়ুর ঋণ উত্তরপ্রদেশের তুলনায় বেশি।

   

চিদাম্বরম সামাজিক মাধ্যমে এই বিষয়টি নিয়ে আরও বলেন, “তামিলনাড়ুর ঋণ-বোঝা দেশের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ, পাঞ্জাব এবং হরিয়ানার পরে। তবে তামিলনাড়ুর ঋণ-জিডিপি অনুপাত এখনও কোভিড পূর্ববর্তী স্তরের তুলনায় অনেক বেশি।” এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, তামিলনাড়ুর ঋণ পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে অনেক রাজ্যের চেয়ে আরও উন্নত হতে পারে, তবে এটি দেশের উন্নত অর্থনৈতিক পরিস্থিতির তুলনায় খুব বেশি বিপদজনক নয়। এই ধরনের মন্তব্য কংগ্রেস দলের ভেতরে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে, কারণ একদিকে যেখানে চক্রবর্তীর মন্তব্য তামিলনাড়ুর ঋণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে, অন্যদিকে চিদাম্বরম এমন মন্তব্য করেছেন যা তামিলনাড়ুর ঋণ পরিস্থিতিকে সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। অনেক কংগ্রেস নেতা মনে করেন, রাজ্যের ঋণ বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ তেমন কার্যকর নয় এবং সরকারের উচিত রাজ্যের আর্থিক দুরবস্থা নিয়ে বিস্তারিত ও পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করা।

একটি বড় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে যে, চক্রবর্তীর মতো একজন নেতা কেন তামিলনাড়ুর ঋণ নিয়ে এমন একপেশে মন্তব্য করলেন, যার ফলে দলের মধ্যেই বিভাজন তৈরি হতে পারে। তবে চিদাম্বরমের বক্তব্যে এক ধরনের শান্তনা রয়েছে, যেখানে তিনি একথা পরিষ্কার করেছেন যে, ঋণের বৃদ্ধি একটি সাধারণ প্রবণতা এবং এটি কোনওভাবেই একটি দেশের বা রাজ্যের অর্থনীতির পতনকে নির্দেশ করে না। বরং, যে কোনও উন্নত দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ঋণের বৃদ্ধি একটি স্বাভাবিক বিষয়।

এদিকে, কংগ্রেস দলের ভেতরে এখন এই নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। দলের নেতারা ভিন্ন মত পোষণ করেছেন এবং চক্রবর্তীর মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে চিদাম্বরমের মূল্যায়নকে অনেকেই সমর্থন জানিয়েছেন। তবে, রাজ্য সরকারের কাছে এখন একটি বড় প্রশ্ন হলো – অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তারা কি পদক্ষেপ নেবে এবং ঋণের বোঝা কমানোর জন্য কিভাবে কাজ করবে।

Advertisements