
রায়পুর: ছত্তীসগড়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক আবহাওয়া হঠাৎই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে (Chhattisgarh)একটি অতি সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রশ্নের কারণে। রাজ্যের একটি সরকারি স্কুলের ক্লাস ফোরের ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে একটি MCQ-তে কুকুরের নাম হিসেবে চারটি অপশন দেওয়া হয়েছিল: (A) Tommy, (B) Blacky, (C) Ram, (D) Moti। এই ‘Ram’ অপশনটিকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে হিন্দু সংগঠনগুলির তীব্র বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ শুরু হয়েছে।
অনেকে এটিকে হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি অপমান বলে অভিহিত করেছেন।ঘটনাটি ঘটেছে রায়পুর জেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরীক্ষার দিন ছাত্রছাত্রীরা প্রশ্নপত্র দেখে অবাক হয়ে যায়। অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়তেই বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। বিজেপি নেতা ও হিন্দু সংগঠনগুলি দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়।
ভারতের সামরিক শক্তির প্রদর্শন, ২৬শে জানুয়ারি গর্জে উঠবে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর যুদ্ধবিমানগুলি
বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP), বজরং দল এবং অন্যান্য সংগঠনের কর্মীরা রায়পুর, দুর্গ, বিলাসপুর সহ একাধিক জেলায় বিক্ষোভ দেখায়। কোথাও কোথাও ব্ল্যাকবোর্ডে ‘রাম’ লিখে প্রতিবাদ করা হয়, কোথাও আবার শিক্ষামন্ত্রীর পুত্তলিকা দাহ করা হয়। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন যে, প্রশ্নপত্র তৈরির সময় কোনও ধর্মীয় সংবেদনশীলতার কথা মাথায় রাখা হয়নি।বিক্ষোভের চাপে ছত্তীসগড়ের শিক্ষা দফতর তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বেদন্ত কাস্তুরিয়া একটি আনুষ্ঠানিক ক্ষমাপ্রার্থনা জারি করেন। তিনি বলেন, “এটি একটি অভূতপূর্ব ভুল এবং অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা ছাত্রছাত্রীদের কাছে ক্ষমা চাইছি এবং এই ধরনের ভুল আর কখনও হবে না।” শিক্ষা সচিব একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া প্রশ্নপত্র তৈরির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।
বিরোধী দল বিজেপি এই ঘটনাকে কংগ্রেস সরকারের ‘হিন্দু-বিরোধী’ মনোভাবের প্রমাণ বলে তুলে ধরেছে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি কিরণ সিং দেও বলেছেন, “কুকুরের নাম হিসেবে ‘রাম’ রাখা মানে লর্ড রামের সঙ্গে অপমানজনক তুলনা। এটি শুধু ভুল নয়, এটি ইচ্ছাকৃত অপমান।” অন্যদিকে কংগ্রেসের তরফে বলা হয়েছে যে, এটি একটি অসাবধানতাবশত ঘটা ভুল এবং সরকার তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।
স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। অনেকে বলছেন, ছোট ক্লাসের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরির সময় আরও সতর্কতা দরকার। কেউ কেউ আবার বলছেন যে, এই ঘটনা অতিরিক্ত রাজনীতিকরণ করা হয়েছে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে রাজ্যে ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সংবেদনশীলতার প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এসেছে।










