সততার নজির! সোনার গয়না ভরতি ব্যাগ ফেরালেন সাফাইকর্মী

chennai-sanitation-worker-returns-gold-jewellery

চেন্নাই: প্রতিদিনের ব্যস্ত শহুরে জীবনে যখন হারিয়ে যাওয়া জিনিস (Chennai)ফিরে পাওয়ার আশা প্রায় নেই বললেই চলে, তখন এক সাফাইকর্মীর সততা নতুন করে মানুষের উপর বিশ্বাস ফেরাল। তামিলনাড়ুর রাজধানী চেন্নাইয়ে এমনই এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল দেশ।

Advertisements

সাফাইকর্মী এস. পদ্মা রাস্তার ধারে পড়ে থাকা একটি ব্যাগে বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না পেয়েও এক মুহূর্তের জন্য লোভে পড়েননি। বরং তিনি তা তুলে দিলেন পুলিশের হাতে। পরে জানা যায়, ওই ব্যাগে ছিল প্রায় ৪৫ সার্বভৌম (প্রায় ৩৬০ গ্রাম) সোনার গয়না, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা।

   

৮ বছর ধরে ‘সঙ্গমে নারাজ’ স্ত্রীকে খুন স্বামীর

ঘটনাটি ঘটেছে ২০২৬ সালের ১১ জানুয়ারি। চেন্নাইয়ের ব্যস্ত টি. নগর এলাকার একটি মন্দির সংলগ্ন রাস্তায় প্রতিদিনের মতো সাফাইয়ের কাজ করছিলেন পদ্মা। সেই সময়েই তিনি রাস্তায় পড়ে থাকা একটি সন্দেহজনক ব্যাগ দেখতে পান। প্রথমে সাধারণ আবর্জনা ভেবেই এগিয়ে গেলেও, পরে ব্যাগটি ভারী মনে হওয়ায় খুলে দেখেন। ভিতরে চোখ ধাঁধানো সোনার হার, চুড়ি, আংটি সহ নানা গয়না। মুহূর্তের জন্য হতবাক হয়ে যান তিনি।

সহকর্মীরা তখন আশপাশেই ছিলেন। অনেকেই পরামর্শ দেন ব্যাগটি রেখে দেওয়ার, কারণ মালিক খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। কিন্তু পদ্মা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই গয়না তাঁর নয় এবং অন্যের সম্পত্তি নিজের কাছে রাখা পাপ। কোনও দ্বিধা না করেই তিনি সরাসরি পন্ডি বাজার থানায় গিয়ে ব্যাগটি জমা দেন।

পুলিশি তদন্তে জানা যায়, ব্যাগটির মালিক একজন গয়নার ব্যবসায়ী। মন্দিরে পুজো দিতে এসে অসাবধানতাবশত তিনি ব্যাগটি ফেলে যান। কিছুক্ষণ পর বিষয়টি বুঝতে পেরে আতঙ্কে থানায় যোগাযোগ করেন তিনি। তখনই পুলিশ তাঁকে জানায়, ব্যাগটি ইতিমধ্যেই উদ্ধার হয়েছে। নিজের চোখে ব্যাগ ও গয়না অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেয়ে আবেগে ভেঙে পড়েন ওই ব্যবসায়ী।

চেন্নাই পুলিশ পদ্মার এই সততার ভূয়সী প্রশংসা করে। তাঁর ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরাও জানান, স্বল্প আয়ের মানুষ হয়েও পদ্মা যে নৈতিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা সমাজের জন্য দৃষ্টান্ত। বিষয়টি জানাজানি হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রশংসা শুরু হয়। একটি পোস্টে হাজারেরও বেশি মানুষ লাইক ও মন্তব্য করে পদ্মার সততাকে কুর্নিশ জানান। অনেকেই লেখেন, “এইরকম মানুষদের জন্যই সমাজ এখনও টিকে আছে।”

ঘটনার খবর পৌঁছায় তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্ট্যালিনের কাছেও। তিনি নিজে পদ্মাকে অভিনন্দন জানান এবং তাঁর সততার পুরস্কার হিসেবে ১ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেন। মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে জানানো হয়, সমাজে নৈতিকতার মূল্যবোধ জাগ্রত রাখতে এই ধরনের মানুষদের সম্মানিত করা অত্যন্ত জরুরি।

নিজের প্রতিক্রিয়ায় পদ্মা বলেন, “আমি দরিদ্র হতে পারি, কিন্তু সৎ। এই গয়না আমার জীবনের সব সমস্যার সমাধান করতে পারত, কিন্তু অন্যের জিনিস নিজের করে নেওয়া আমি ভাবতেই পারিনি।” তাঁর এই বক্তব্য আরও একবার প্রমাণ করে, সততা কোনও আর্থিক অবস্থার উপর নির্ভর করে না, বরং মানুষের চরিত্রের পরিচয় দেয়।

বর্তমান সময়ে যখন দুর্নীতি, স্বার্থপরতা ও অনৈতিকতার খবরই বেশি শোনা যায়, তখন এস. পদ্মার মতো মানুষেরা আশার আলো দেখান। এই ঘটনা শুধু একটি হারানো ব্যাগ ফিরে পাওয়ার গল্প নয়, বরং সমাজকে মনে করিয়ে দেয় সততা এখনও বেঁচে আছে, আর সাধারণ মানুষের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে অসাধারণ মানবিকতা।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন
Advertisements