নয়াদিল্লি: ভারতের বিদেশ নীতিতে ফের একবার বিতর্কের ঝড় উঠেছে। (Chabahar Port)কংগ্রেস অভিযোগ করছে যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপে ইরানের চাবাহার বন্দর প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এটাকে তারা ‘আত্মসমর্পণ’-এর দ্বিতীয় পর্ব বলে দাবি করছে। চাবাহার বন্দর ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় প্রবেশের দরজা, পাকিস্তানকে এড়িয়ে বাণিজ্যের পথ।
কিন্তু ট্রাম্পের দ্বিতীয় টার্মে ইরানের উপর নতুন করে স্যাঙ্কশনের হুমকি, এবং চাবাহারের জন্য মার্কিন ছাড় (ওয়েভার) শেষ হয়ে যাওয়ায় ভারতের অবস্থান নড়বড়ে হয়েছে বলে সমালোচকরা বলছেন।ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫-এর শেষ দিকে, যখন ট্রাম্প পুনর্নির্বাচিত হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেন। তিনি ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর উপর ২৫% ট্যারিফের হুমকি দেন।
বর্ধমানে ফর্ম ৭ নিয়ে তুলকালাম! পুলিশের গলা টিপল বিজেপি কর্মী
ভারত ২০১৬ সাল থেকে চাবাহারে বিনিয়োগ করছে। প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করে দু’টি টার্মিনাল গড়েছে, যা ভারতীয় কোম্পানি আইপিজিএল পরিচালনা করে। এটি ভারতের জন্য কৌশলগত আফগানিস্তানে সাহায্য পাঠানো, মধ্য এশিয়ায় বাণিজ্য বাড়ানো, এবং চীনের গোয়াদার পোর্টের সঙ্গে প্রতিযোগিতা। ট্রাম্পের প্রথম টার্মে (২০১৮) ভারতকে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এবার সেই ওয়েভারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।
সূত্র বলছে, ভারত প্রকল্প থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে, এবং চাবাহারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটও সরিয়ে ফেলা হয়েছে।কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা। পার্টির মুখপাত্র জয়রাম রমেশ বলেন, “নরেন্দ্র মোদী আবার ট্রাম্পের কাছে হাঁটু গেড়েছেন।
চাবাহার ভারতের স্বার্থের জন্য অপরিহার্য, কিন্তু ট্রাম্পের চাপে মোদী জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়েছেন। এটা দুর্বলতা, না কি ভুল নীতি?” কংগ্রেসের একটি পোস্টে বলা হয়েছে, “মোদী সরকার ট্রাম্পের চাপে চাবাহারের নিয়ন্ত্রণ ছেড়েছে, ওয়েবসাইট সরিয়েছে।
এটা ভারতের বিদেশ নীতির লজ্জাজনক আত্মসমর্পণ।” সমালোচকরা স্মরণ করাচ্ছেন, ট্রাম্পের প্রথম টার্মে রাশিয়া থেকে সস্তা তেল কেনা কমানোর চাপে ভারত পিছু হটেছিল, এবার চাবাহার। রেডিট এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনরা বলছেন, “মোদী ট্রাম্পের সামনে কাপুরুষের মতো আচরণ করছেন, ভারতের স্বাধীনতা কোথায়?”কিন্তু সরকারী সূত্র এই অভিযোগ অস্বীকার করছে। বিদেশ মন্ত্রকের এক কর্মকর্তা বলেন, “ভারত চাবাহার ছাড়ছে না।
আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা চলছে, মধ্যপথ খুঁজছি। এটি আমাদের কৌশলগত সম্পদ, বিকল্প নেই।” এনডিটিভির রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত ওয়াশিংটনের সঙ্গে গোপন আলোচনায় রয়েছে যাতে ওয়েভার বাড়ানো যায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা অস্থায়ী সমন্বয়, স্থায়ী প্রত্যাহার নয়। থ্রেডস-এ একটি পোস্টে বলা হয়েছে, “আত্মসমর্পণের গল্প ভুল। এটা কূটনৈতিক প্রক্রিয়া।”এই ঘটনার প্রভাব ব্যাপক।
চাবাহার ভারতের জন্য আফগানিস্তানে মানবিক সাহায্যের হাব, যেখানে ২০২১-এ তালিবানের পরও ভারত গম, ওষুধ পাঠিয়েছে। যদি প্রকল্প থেকে সরে যায়, তাহলে চীনের গোয়াদার পোর্ট শক্তিশালী হবে, ভারতের মধ্য এশিয়া অ্যাক্সেস কমবে। অর্থনৈতিকভাবে, ভারতের বিনিয়োগ নষ্ট হতে পারে। জাতীয় হেরাল্ডের রিপোর্ট বলছে, ট্রাম্পের ইরান নীতি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ, যা মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়াতে পারে।
রাজনৈতিক মহলে এটা মোদী সরকারের দুর্বলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষক অশোক কান্থ বলেন, “ভারতের পররাষ্ট্রনীতি স্বাধীন হওয়া উচিত, কিন্তু ট্রাম্পের চাপে পিছু হটলে বিশ্বাসযোগ্যতা কমে।” কংগ্রেস এটাকে ২০২৬-এর লোকসভা নির্বাচনের ইস্যু করতে চাইছে। অন্যদিকে বিজেপি বলছে, এটা বিরোধীদের ফেক নিউজ।
