
নয়াদিল্লি: পাকিস্তানকে কটাক্ষ করে স্পষ্ট বার্তা দিলেন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল অনিল চৌহান। শনিবার তিনি বলেন, “যুদ্ধ জেতা যায় না ফাঁকা কথায় বা প্রতীকী প্রদর্শনে, জয় আসে স্পষ্ট লক্ষ্য, শৃঙ্খলা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ থেকেই।” ডুন্ডিগালে এয়ার ফোর্স অ্যাকাডেমিতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর টার্মের কম্বাইন্ড গ্র্যাজুয়েশন প্যারেডে সভাপতির ভাষণে এই মন্তব্য করেন সিডিএস।
তীক্ষ্ণ ইঙ্গিত
জেনারেল চৌহানের বক্তব্যে ছিল পাকিস্তানের প্রতি সূক্ষ্ম কিন্তু তীক্ষ্ণ ইঙ্গিত। তাঁর কথায়, যুদ্ধক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও যখন ভুয়ো ‘বিজয়’ প্রচার চালানো হয়, তখন তা বাস্তব শক্তির অভাবই প্রকাশ করে। “রেটরিক দিয়ে যুদ্ধ জেতা যায় না,” বলে তিনি স্পষ্ট করে দেন—প্রকৃত শক্তি আসে পরিকল্পনা, শৃঙ্খলা ও সিদ্ধান্তমূলক বাস্তবায়ন থেকে।
বিশ্ব পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে সিডিএস বলেন, বহু অঞ্চলে আজ অস্থিরতার মূলে রয়েছে দুর্বল প্রতিষ্ঠান ও প্রতিক্রিয়াশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণ। তাঁর পর্যবেক্ষণে, এই ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ভঙ্গুরতা দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও নিরাপত্তাহীনতার জন্ম দেয়। পরোক্ষভাবে প্রতিবেশী দেশের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি যোগ করেন, “আমাদের চারপাশে এমন উন্নয়ন আমরা বারবার দেখি। তার বিপরীতে ভারতের শক্তি নিহিত দৃঢ় প্রতিষ্ঠান, গণতান্ত্রিক স্থিতি এবং সশস্ত্র বাহিনীর অটল পেশাদারিত্বে।”
সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসা CDS Anil Chauhan’s Message To Pakistan
ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসা করে জেনারেল চৌহান বলেন, শক্ত মূল্যবোধ ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার ভিতের উপর দাঁড়িয়েই ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিশ্বাসযোগ্যতা গড়ে উঠেছে। অভিযোজনক্ষমতা থাকলেও সেই অভিযোজন কখনওই মূল নীতির সঙ্গে আপস করে না—এই ভারসাম্যই ভারতের নিরাপত্তার মেরুদণ্ড।
নবনিযুক্ত অফিসারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাঁরা এমন এক সময়ে বাহিনীতে যোগ দিচ্ছেন, যখন অপারেশন ‘সিন্দুর’ চলমান। বর্তমান নিরাপত্তা পরিবেশে প্রস্তুতি ও পেশাদারিত্বের দাবি তাৎক্ষণিক এবং বাস্তব—এ কথা মনে করিয়ে দেন সিডিএস। “আপনাদের কেরিয়ার শুরু হচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন অপারেশন সিন্দুর চলছে,” বলেন তিনি।
প্রতি ঘণ্টায়, প্রতিদিন প্রস্তুত থাকতে হবে
আধুনিক সামরিক পরিষেবাকে তিনি কোনও এককালীন সঙ্কটের প্রতিক্রিয়া নয়, বরং নিরবচ্ছিন্ন প্রস্তুতির অনুশীলন হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। সতর্কতা ও দ্রুত অভিযোজন, এই দু’টি গুণকে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর কথায়, “প্রতি ঘণ্টায়, প্রতিদিন প্রস্তুত থাকা, এটাই আমাদের শক্তি। জয়কে অভ্যাসে পরিণত করাই হওয়া উচিত নতুন স্বাভাবিক।”
ভাষণের শেষে জেনারেল অনিল চৌহান নবীন অফিসারদের নেতৃত্বে উদাহরণ স্থাপনের আহ্বান জানান। যুদ্ধের সময়ই শুধু নয়, গোটা কর্মজীবন জুড়েই সতর্কতা, প্রস্তুতি ও পেশাদারিত্ব—এই তিনের সমন্বয়ই তাঁদের সাফল্য নির্ধারণ করবে বলে তিনি জোর দেন।










