
নয়াদিল্লি, ১৫ জানুয়ারি: I-PAC এর ইডি-র মামলায় সুপ্রিম কোর্টে শুনানি ছিল আজ বৃহস্পতিবার (ED I-PAC Raid Case)। ইডির বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআরে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রীর নিয়ে আসা জিনিসগুলো সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সুপ্রিম কোর্টে এই মামলায় পরবর্তী শুনানি হবে ৩ ফেব্রুয়ারি। এছাড়াও পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত পুলিশি তদন্তের উপরেও স্থগিতাদেশ দিয়েছে আদালত। জানা যাচ্ছে, মামলায় সব পক্ষকে নোটিস জারি করেছে দুই বিচারপতির বেঞ্চ। দু’সপ্তাহের মধ্যে সব পক্ষের কাছ থেকে হলফনামা তলব করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ওই এলাকার সব সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত।
আইপ্যাক-কাণ্ডে বড় ধাক্কা তৃণমূল কংগ্রেস ও রাজ্য সরকারের। রাজ্য পুলিশের পক্ষে বড় ধাক্কা। ইডি-র বিরুদ্ধে ৪ টে দায়ের করা মামলাতেই স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। এই ধরণের মামলা কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে করতে পারেনা, এমনই পর্যবেক্ষণ আদালতের। সমস্ত নথি আর যা যা সিসিটিভি ফুটেজ আছে তা সংগ্রহ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এই সম্পর্কে বিচারপতি মিশ্র বলেন, “পিএমএলএ আইনের ৬৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী যদি ইডির আধিকারিকেরা অনুমোদনপত্র নিয়ে তল্লাশি চালিয়ে থাকেন, তা হলে ধরে নেওয়া যায় যে, তাঁরা সৎ উদ্দেশ্যে কাজ করছিলেন।”
ইডির দাবিতেই মান্যতা দেয় সুপ্রিম কোর্ট। ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা পুলিশের এফআইআরগুলিতে স্থগিতাদেশ দিয়েছে আদালত। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, “৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সমস্ত নথি ও সিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করতে হবে। আশপাশের এলাকায় ফুটেজ ও সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করতে হবে।’
সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “এটা ঠিক যে, কোনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থারই কোনও রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী কাজে হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই।” আবার একই সঙ্গে আদালতের প্রশ্ন যে যদি কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থা সৎ উদ্দেশ্যে কোনও গুরুতর অপরাধের তদন্ত করে, তা হলে কি শুধুমাত্র এটা ‘দলের কাজ’। এই অজুহাতে তাদের তদন্ত চালানোর ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করা যেতে পারে?”
আজ সিবিআই তদন্ত চেয়ে সওয়াল অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল রাজু ইডির হয়ে সওয়াল করেন, “কোনও কোনও ক্ষেত্রে আদালত এই সিদ্ধান্তেও আসতে পারে যে, শুধু সিবিআই তদন্তই প্রয়োজন নয়, বরং সেই তদন্ত রাজ্যের বাইরে থেকে করা দরকার। এমন অনেক নির্দেশ এর আগে সুপ্রিম কোর্ট দিয়েছে।” তিনি জানান যে ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে মোট চারটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি। আজ আইনজীবী মনুসিঙ্ঘভি বেঞ্চকে অনুরোধ করেন যাতে তদন্তে স্থগিতাদেশ না দেওয়া হয়। তিনি এমন নির্দেশের জন্য অনুরোধ করেন এবং বলেন যে পুলিশ কড়া পদক্ষেপ করবে না। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মিশ্র বলেন, “অন্য কোর্ট ১০ মিনিট শুনে নির্দেশ দেয়। আমরা তো আপনাদের বক্তব্য শুনেছি। নোটিস জারি করতে রাজি হয়েছি।”










