নয়াদিল্লি: ২০২৬ সালের সাধারণ বাজেটের (Budget 2026)আগে অর্থনৈতিক রূপরেখা চূড়ান্ত করতে বড়সড় উদ্যোগ নিল মোদী সরকার। মঙ্গলবার নীতি আয়োগে দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল দেশের স্থবির হয়ে থাকা পরিকাঠামো প্রকল্পগুলিকে কীভাবে ফের গতি দেওয়া যায় এবং একই সঙ্গে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার ঝুঁকি কমিয়ে বিনিয়োগের পরিবেশ কীভাবে আরও মজবুত করা যায়।
এই বৈঠক থেকেই উঠে এসেছে একটি বড় পরিকল্পনার ইঙ্গিত প্রায় ₹২৫,০০০ কোটি টাকার একটি Risk Guarantee Fund গঠনের প্রস্তাব। সূত্রের খবর, এই তহবিলের মাধ্যমে ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেওয়া হবে, যাতে তারা অনায়াসে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা পরিকাঠামো প্রকল্পগুলিতে ঋণ দিতে পারে।
‘খেলার নাম ফাটাফাটি’, নির্বাচনের উত্তেজনা বাড়ালেন মমতা
সরকারি মহলের মতে, দেশে বহু গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো প্রকল্প যেমন সড়ক, রেল, বিদ্যুৎ, বন্দর ও নগর উন্নয়ন আর্থিক জটিলতা ও ঋণঝুঁকির কারণে মাঝপথে থমকে রয়েছে। ব্যাঙ্কগুলি অতীতে বিপুল পরিমাণ অনাদায়ী ঋণের (NPA) অভিজ্ঞতার কারণে বড় প্রকল্পে অর্থ ঢালতে দ্বিধাগ্রস্ত। এই পরিস্থিতিতে রিস্ক গ্যারান্টি ফান্ড একটি ‘বিশ্বাসের সেতু’ হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
নীতি আয়োগ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই তহবিলের আওতায় নির্দিষ্ট শর্তে সরকার আংশিক ঝুঁকি বহন করবে। ফলে কোনও প্রকল্প ব্যর্থ হলে সম্পূর্ণ ক্ষতির বোঝা ব্যাঙ্কের ঘাড়ে পড়বে না। এর ফলে ব্যাঙ্কগুলির আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদি ঋণপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে এমনটাই সরকারের আশা।
বৈঠকে উপস্থিত এক অর্থনীতিবিদের কথায়, “দেশে মূলধন আছে, বিনিয়োগকারীর আগ্রহও আছে। কিন্তু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অভাবে বহু প্রকল্প আটকে যায়। এই রিস্ক গ্যারান্টি ফান্ড সেই জায়গাটাই পূরণ করতে পারে।” তাঁর মতে, এটি বাস্তবায়িত হলে পরিকাঠামো ক্ষেত্রে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে গতি আসবে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী বৈঠকে স্পষ্ট করে দেন, ২০২৬ সালের বাজেট শুধু হিসেবের খাতা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের রূপরেখা। তাঁর বক্তব্য, “পরিকাঠামো মানেই শুধু রাস্তা বা সেতু নয় এটা কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির ভিত্তি।” সেই কারণেই ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা ও পরিকাঠামো খাতকে একসঙ্গে শক্তিশালী করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
অর্থনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই তহবিল বিদেশি ও দেশীয় বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও ইতিবাচক বার্তা পাঠাবে। ঝুঁকি কমলে পুঁজির প্রবাহ বাড়ে এই সহজ সমীকরণেই বাজারে আস্থা ফিরবে। বিশেষ করে বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে ভারতের এই পদক্ষেপ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বার্তা দিতে পারে। তবে কিছু অর্থনীতিবিদ সতর্কও করছেন। তাঁদের মতে, ঝুঁকি গ্যারান্টি দিতে গিয়ে যেন সরকারের আর্থিক শৃঙ্খলা বিঘ্নিত না হয়। স্বচ্ছতা ও কঠোর নজরদারি ছাড়া এই ধরনের তহবিল ভবিষ্যতে চাপ তৈরি করতে পারে বলেও মত তাঁদের।
সব মিলিয়ে, বাজেট ২০২৬-এর আগে মোদী সরকারের এই উদ্যোগ স্পষ্ট করে দিচ্ছে পরিকাঠামো উন্নয়নকে কেন্দ্র করেই আগামী অর্থনৈতিক কৌশল সাজাতে চাইছে কেন্দ্র। ₹২৫,০০০ কোটির রিস্ক গ্যারান্টি ফান্ড বাস্তবে রূপ পেলে, তা শুধু থমকে থাকা প্রকল্পগুলিকে নয়, গোটা অর্থনীতিকেই নতুন গতি দিতে পারে এমনটাই আশা ওয়াকিবহাল মহলের।
