বাজেট ২০২৬ নিয়ে অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা মোদীর

নয়াদিল্লি: ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের (Budget 2026) ইউনিয়ন বাজেট পেশের আগে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ বৈঠকে বসতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবার দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের…

PM Modi Bihar Jungle Raj

নয়াদিল্লি: ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের (Budget 2026) ইউনিয়ন বাজেট পেশের আগে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ বৈঠকে বসতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবার দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। সরকারের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, আসন্ন বাজেটের আর্থিক দিকনির্দেশনা, রাজস্ব নীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতামত গ্রহণ করাই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।

Advertisements

সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন আগামী ১ ফেব্রুয়ারি সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের ইউনিয়ন বাজেট পেশ করতে পারেন। এই বাজেট এমন এক সময়ে আসছে, যখন বিশ্ব অর্থনীতি একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভারতের রপ্তানির উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ দেশীয় অর্থনীতির উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে।

   

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন নীতিআয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান সুমন বেরি, নীতিআয়োগের CEO বি ভি আর সুব্রহ্মণ্যম এবং সংস্থার অন্যান্য সদস্যরা। পাশাপাশি শিল্প, কৃষি, পরিকাঠামো, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, শক্তি এবং আর্থিক পরিষেবা খাতের বিশেষজ্ঞরাও এই আলোচনায় অংশ নেবেন বলে জানা গিয়েছে।

এই বৈঠকে আগামী অর্থবর্ষের রাজস্ব ও ব্যয় কাঠামো, বিনিয়োগ বৃদ্ধির কৌশল, কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা এবং MSME খাতকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং সবুজ শক্তি খাতে নীতিগত সহায়তা বাড়ানোর বিষয়েও অর্থনীতিবিদদের মতামত জানতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী।

বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে বাজেট প্রণয়ন সরকারের জন্য সহজ কাজ নয়। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন সংকটের প্রভাব, অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক সুদের হারের ওঠানামা ভারতের আর্থিক পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা খাত মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধির ফলে চাপের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই পরিস্থিতিতে সরকার রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ, নতুন আন্তর্জাতিক বাজার অনুসন্ধান এবং ঘরোয়া উৎপাদন বৃদ্ধির উপর জোর দিতে পারে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশীয় শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার পরিকল্পনাও বাজেটে প্রতিফলিত হতে পারে।

মধ্যবিত্ত ও কৃষক সমাজের দিকেও বাজেট ২০২৬–এ বিশেষ নজর দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা। আয়কর কাঠামোতে কিছু স্বস্তি, কৃষি ভর্তুকি ও ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ব্যবস্থার উন্নতি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নের মতো বিষয়গুলি বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী মোদী আগেই জানিয়েছেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে এই আলোচনা বাজেট প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে বাজেট ২০২৬–২৭ ভারতের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপরেখা তৈরি করতে চলেছে।

Advertisements