
নয়াদিল্লি: ২০২৬ সালে ব্রিকস (BRICS) গোষ্ঠীর সভাপতিত্ব করতে চলেছে ভারত। এই ঐতিহাসিক মাইলফলককে সামনে রেখে মঙ্গলবার ব্রিকস ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক লোগো এবং ওয়েবসাইটের উন্মোচন করলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বহুমুখী এই আন্তর্জাতিক মঞ্চের ২০ বছর পূর্তির বছরে ভারতের এই নেতৃত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
লোগোর বৈশিষ্ট্য: ঐতিহ্য ও সংহতির মেলবন্ধন
নতুন লোগোটিতে ভারতের জাতীয় ফুল পদ্মকে অনুপ্রেরণা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা গভীর ঐতিহ্য এবং ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তির প্রতীক।
পাপড়ির বিন্যাস: লোগোর পাপড়িগুলোতে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর পতাকার রঙ ব্যবহার করা হয়েছে, যা বিভিন্ন কণ্ঠস্বরের একতা বোঝায়।
নমস্তে মুদ্রা: লোগোর কেন্দ্রে রয়েছে ‘নমস্তে’ বা করজোড় ভঙ্গি, যা পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সহযোগিতার আহ্বান জানায়।
ট্যাগলাইন: এবারের থিম বা ট্যাগলাইন হলো— “Building for Resilience, Innovation, Cooperation and Sustainability” (স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্বের জন্য গঠন)।
ব্রিকসের কলেবর বৃদ্ধি: একটি বৈশ্বিক শক্তি BRICS 2026 India Chairmanship
২০০৬ সালে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত এবং চিনকে নিয়ে শুরু হওয়া এই গোষ্ঠী এখন এক বিশাল শক্তিতে পরিণত হয়েছে। পরবর্তীকালে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ২০২৪-২৫ সালে মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও ইন্দোনেশিয়া পূর্ণ সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়েছে।
বর্তমানে এই ১১টি দেশ সম্মিলিতভাবে:
বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৯.৫ শতাংশ।
বিশ্ব জিডিপির (GDP) প্রায় ৪০ শতাংশ।
বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ২৬ শতাংশ।
ওয়েবসাইট ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
নতুন ওয়েবসাইটটি ব্রিকসের বিভিন্ন উদ্যোগ, প্রকল্প, ইভেন্ট এবং অফিশিয়াল নথির প্রধান তথ্যকেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানান, ২০২৬ সালে ভারতের সভাপতিত্বের মূল লক্ষ্য হবে বিশ্বকল্যাণ সাধন করা। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সংলাপকে আরও জোরালো করার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে ব্রিকস।
প্রেক্ষাপট: ২০০১ থেকে ২০২৬
২০০১ সালে গোল্ডম্যান স্যাকস প্রথম ‘BRIC’ শব্দটি ব্যবহার করেছিল। ২০০৯ সালে রাশিয়ায় প্রথম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ২০১১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা যোগ দেওয়ার পর এটি ‘BRICS’-এ পরিণত হয়। ২০২৪ সালে একযোগে চার দেশ এবং ২০২৫ সালে ইন্দোনেশিয়া যোগ দেওয়ার পর এই গোষ্ঠী এখন ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে পশ্চিমী দেশগুলোর এক শক্তিশালী বিকল্প হয়ে উঠেছে।
২০২৬ সালে ভারতের নেতৃত্বে এই গোষ্ঠী প্রযুক্তিগত এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।





