ভারতরত্ন বা পদ্ম সম্মান এই পুরস্কারগুলি দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক স্বীকৃতির প্রতীক হলেও, (Bharat Ratna and Padma Awards not titles)এগুলিকে ব্যক্তির নামের আগে বা পরে ‘উপাধি’ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। এমনটাই স্পষ্ট জানিয়ে দিল বম্বে হাই কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, ভারতরত্ন, পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণ কিংবা পদ্মশ্রী কোনওটিই সাংবিধানিক অর্থে ‘টাইটেল’ নয় এবং সেগুলিকে নামের সঙ্গে জুড়ে ব্যবহার করা বেআইনি। এমনকি এই নিয়ম ভাঙলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পুরস্কার প্রত্যাহার পর্যন্ত হতে পারে বলেও কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে আদালত।
এই রায় দিতে গিয়ে বম্বে হাই কোর্ট ১৯৯৫ সালের সুপ্রিম কোর্টের একটি ঐতিহাসিক রায়ের উল্লেখ করেছে। ওই রায়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট করে বলেছিল, পদ্ম সম্মান বা ভারতরত্ন কোনও ‘উপাধি’ নয় এবং সংবিধানের ১৮ অনুচ্ছেদের আলোকে এগুলিকে নামের অংশ বানানো চলবে না। হাই কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, এত বছর পরেও সেই রায়ই কার্যকর রয়েছে এবং তার ব্যতিক্রম হওয়ার কোনও প্রশ্ন নেই।
মতুয়াদের স্বস্তি দিয়ে CAA সার্টিফিকেট বৈধ হিয়ারিংএ
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ভারতের সংবিধান স্পষ্টভাবে অভিজাত উপাধি বা টাইটেলের ধারণাকে নাকচ করে। ব্রিটিশ আমলের ‘স্যার’, ‘লর্ড’ বা অনুরূপ উপাধির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতেই সংবিধানের ১৮ অনুচ্ছেদে এই নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়েছিল। ভারতরত্ন বা পদ্ম সম্মান ব্যক্তির অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হলেও, তা কোনও সামাজিক বা আইনি শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক নয়। তাই এগুলিকে নামের সঙ্গে জুড়ে পরিচয় গড়ে তোলা সংবিধানের ভাবনার পরিপন্থী।
বম্বে হাই কোর্ট আরও জানিয়েছে, কোনও পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের নামের আগে বা পরে ‘পদ্মশ্রী’, ‘পদ্মভূষণ’ বা ‘ভারতরত্ন’ লিখে থাকেন হোক তা ভিজিটিং কার্ডে, সরকারি নথিতে, বিজ্ঞাপনে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় তাহলে তা পুরস্কারের অপব্যবহার হিসেবে গণ্য হবে। এই ধরনের অপব্যবহার প্রমাণিত হলে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে সংশ্লিষ্ট সম্মান প্রত্যাহারের ক্ষমতা রয়েছে।
আইনি মহলের একাংশের মতে, এই রায় আসলে পুরনো আইনি অবস্থানই নতুন করে মনে করিয়ে দিল। দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছিল, কিছু পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি নিজেদের পরিচয়ের অংশ হিসেবে পদ্ম সম্মান ব্যবহার করছেন। আদালতের মতে, এই প্রবণতা শুধু আইনবিরুদ্ধই নয়, পুরস্কারের মর্যাদাকেও ক্ষুণ্ণ করে।
তবে আদালত এটাও স্পষ্ট করেছে, পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে নিজের পরিচয়ে এই সম্মান উল্লেখ করা যাবে কিন্তু তা ‘টাইটেল’ হিসেবে নয়। উদাহরণস্বরূপ, কোনও বায়োডাটা, প্রোফাইল বা লেখায় বলা যেতে পারে যে অমুক ব্যক্তি পদ্মশ্রী প্রাপক। কিন্তু নামের সঙ্গে স্থায়ীভাবে জুড়ে দেওয়া যাবে না।
এই রায়ের পর প্রশাসনিক ও সামাজিক স্তরে নতুন করে সচেতনতা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা উঠেছে। অনেকের মতে, সম্মান পাওয়ার গর্ব থাকলেও সংবিধানের সীমারেখা মেনে চলাই প্রকৃত সম্মান। বম্বে হাই কোর্টের এই কড়া বার্তা সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে—সম্মান অর্জন করুন, কিন্তু তাকে উপাধিতে পরিণত করবেন না।


