নয়ডা: শুক্রবার সকাল সাতটায় নয়ডার একটি বেসরকারি স্কুলে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হয়, যখন স্কুল প্রশাসন ও শিক্ষার্থীরা একটি সন্দেহজনক ইমেল পেয়ে আতঙ্কিত হন। ইমেলে স্কুলে বোমা রাখার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যে পুরো স্কুল এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয় এবং তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়।
প্রথমিকভাবে, স্কুলের অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা সবাই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্কুল প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “ছাত্রছাত্রীর নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ প্রাধান্য। স্কুলে যে ধরনের হুমকি এসেছে, তার প্রতি আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছি।” পুলিশ ও স্কোয়ার্ড টিমের সদস্যরা পুরো স্কুল প্রাঙ্গণ ও আশেপাশের এলাকা তল্লাশি করছেন। নয়ডা পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, “আমরা বর্তমানে সমস্ত সম্ভাব্য জায়গা তল্লাশি করছি। ইমেলটি ফরেনসিকভাবে যাচাই করা হচ্ছে এবং হুমকির উৎস চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এই ধরনের ঘটনায় আমরা কোনও ঝুঁকি নিতে চাই না।” তিনি আরও বলেন, “নিরাপত্তার কারণে স্কুলের কাছাকাছি এলাকাগুলোতেও সীমিত যানবাহন চলাচল করা হচ্ছে। অভিভাবক ও স্থানীয়দের অনুরোধ করা হচ্ছে, যেন তারা আতঙ্কিত না হন এবং পুলিশের নির্দেশনা মেনে চলেন।”
স্কুল প্রাঙ্গণে থাকা শিক্ষার্থীরা পরিস্থিতি নিয়ে বেশ আতঙ্কিত ছিলেন। এক ছাত্র জানিয়েছেন, “সকালবেলা ইমেলটি পাওয়ার পর সবাই ভীত হয়ে গিয়েছিল। আমরা সবাই দ্রুত বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছি। এখন পুলিশ আমাদের আশেপাশের সবকিছু পরীক্ষা করছে।” অন্য একজন অভিভাবক বলেন, “শিশুরা নিরাপদে আছেন, কিন্তু আমাদেরও খুবই আতঙ্ক হয়েছে। আশা করি দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।”
নয়ডার এই বেসরকারি স্কুলটি সাধারণত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বেশ সচেতন। অতীতেও স্কুল প্রশাসন নিয়মিত নিরাপত্তা ড্রিল পরিচালনা করে থাকে। সেই প্রস্তুতি ও সতর্কতার কারণে দ্রুত তল্লাশি শুরু করা সম্ভব হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের হুমকি সমাজে মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে, তাই স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পুলিশ জানিয়েছে, তারা ইমেলটির উৎস নির্ধারণের জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা গ্রহণ করেছে। ফরেনসিক টিম ইমেলটির সার্ভার, আইপি ঠিকানা এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করছে। একই সঙ্গে, স্কুলের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ আশা করছে যে দ্রুত এই হুমকির সঠিক উৎস চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা এবং অভিভাবকরা স্কুল ও আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। স্কুল প্রশাসনও নিশ্চিত করেছে যে, যতক্ষণ না পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়, ততক্ষণ স্কুলটি বন্ধ থাকবে এবং ছাত্রছাত্রীদের বাড়ি নিরাপদে পাঠানো হবে।
নয়ডার এই বেসরকারি স্কুলে এই ধরনের হুমকি প্রথম নয়। তবে শুক্রবারের ঘটনা দ্রুত প্রতিক্রিয়ার কারণে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। পুলিশের তল্লাশি অভিযান চলাকালীন শিক্ষার্থীরা নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে এবং স্কুল প্রশাসন তাদের মানসিক শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পরই পুলিশ বিস্তারিত বিবৃতি দেবে। এই ধরনের হুমকির মধ্যে স্কুল প্রশাসন, অভিভাবক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয় অভূতপূর্ব। তবে এখনও সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলেই পুলিশের পক্ষ থেকে মনে করানো হয়েছে। এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, নিরাপত্তা এখন স্কুলগুলোর জন্য সর্বোচ্চ প্রাধান্য পেতে বাধ্য। নিয়মিত প্রস্তুতি, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাই বড় ধরনের বিপর্যয় ঠেকাতে পারে।
