কাকে ‘ভারতের মাল’ বলে বিতর্কে BNP নেতা ?

ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে বিএনপির (BNP leader)স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের একটি বিতর্কিত মন্তব্য। কক্সবাজারের চকরিয়ায় সম্প্রতি এক নির্বাচনী পথসভা…

bnp-leader-controversial-comment-india-awami-league

ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে বিএনপির (BNP leader)স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের একটি বিতর্কিত মন্তব্য। কক্সবাজারের চকরিয়ায় সম্প্রতি এক নির্বাচনী পথসভা ও দলীয় অনুষ্ঠানে তিনি আওয়ামী লীগকে “ভারতের প্রোডাক্ট, মেইড ইন ইন্ডিয়া” বলে অভিহিত করেছেন। এই মন্তব্যের সঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, “ইন্ডিয়ার মাল ইন্ডিয়ায় রফতানি হয়ে গেছে, এখন দেশে নতুন করে পাকিস্তানি মাল আসবে নাকি?”

এই বক্তব্যে স্পষ্টতই আওয়ামী লীগকে ভারতের ‘তৈরি করা পণ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিদেশি প্রভাবের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন।সালাহউদ্দিন আহমেদের এই মন্তব্যের পটভূমি আরও আলোচিত কারণ তিনি নিজেই একসময় ভারতে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক আশ্রয়ে ছিলেন। ২০১৫ সালে ঢাকা থেকে অপহরণের অভিযোগ উঠে ভারতের মেঘালয়ে তাকে আটক রাখা হয় বলে দাবি করা হয়।

Advertisements

মহাকাশ গবেষণায় নতুন যুগের সূচনা! নিজস্ব স্পেস স্টেশন বানাচ্ছে ইসরো

   

প্রায় এক দশক ধরে সেখানে থাকার পর তিনি দেশে ফিরে আসেন। এই ঘটনার পরও তিনি ভারতের প্রতি সমালোচনামূলক অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। তাঁর মতে, আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে ভারতের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেছে, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য ক্ষতিকর।এই বক্তব্যের পর বিএনপির অভ্যন্তরে এবং বিরোধী শিবিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

বিএনপির অনেক নেতাকর্মী এটিকে সাহসী ও সত্যভিত্তিক বলে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তি, যেমন টিপাইমুখ বাঁধ, ফেনী নদীর জল, সীমান্ত হত্যা ইত্যাদি ইস্যুতে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা হয়নি। সালাহউদ্দিনের এই মন্তব্যকে তারা ‘ভারতের প্রভাবমুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ার আহ্বান হিসেবে দেখছেন।

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের নেতারা এটিকে ‘অপপ্রচার’ ও ‘দেশবিরোধী’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তারা বলছেন, সালাহউদ্দিন আহমেদ ভারতে আশ্রয় নিয়ে ফিরে এসেও এখন ভারতবিরোধী ভাষায় কথা বলছেন, যা তার নিজের অসঙ্গতি প্রকাশ করে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারত-বিরোধিতার নতুন ঢেউ তুলতে পারে।

বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ‘ইন্ডিয়া আউট’ ক্যাম্পেইনের মতো আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। সালাহউদ্দিন আহমেদের কথায়, বাংলাদেশের রাজনীতি বিদেশি শক্তির খেলার মাঠ হয়ে উঠেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের শক্তি হওয়া উচিত জনগণের শক্তি, কোনো বিদেশি শক্তির নয়। এই বক্তব্যে তিনি আওয়ামী লীগের পতনের পরও বিদেশি প্রভাবের অবসান চান এবং বিএনপিকে একমাত্র ‘বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি’ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

এদিকে, কক্সবাজার-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমেদের এই মন্তব্য নির্বাচনী প্রচারণাকেও প্রভাবিত করতে পারে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, এটি ভোটারদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনা জাগাতে সাহায্য করবে।

তবে সমালোচকরা মনে করেন, এ ধরনের চরম বক্তব্য দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে গভীর হলেও, রাজনৈতিক বিতর্কে এটি প্রায়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।

Advertisements