ঘরের কোন্দলে নীতীশ বাদ! বিহারে একাই লড়বে বিজেপি,জল্পনা তুঙ্গে

এনডিএর অন্যতম জোটসঙ্গী নীতীশ কুমার। জেডিইউর সমর্থন ছাড়া এবার তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসা সম্ভব হতো না নরেন্দ্র মোদীর।এবার সেই নীতীশের রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা ভোটে একা লড়তে চায় বিজেপি। শুক্রবার এমনটাই দাবি করেন বিহারে বিজেপির ‘বড় মাপের নেতা’ অশ্বিনী চৌবে। কিন্তু আগামী বছর আসন্ন বিধানসভা ভোটে নীতীশের সঙ্গে জোট না বেঁধে লড়ার যে প্রসঙ্গটি উঠে এসেছে তাতে রীতিমতো অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির। নীতীশের ‘আমিত্ব’ মনোভাব ভালভাবে নিচ্ছে না বিজেপি। যদিও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর আসন্ন বিহার বিধানসভা ভোট নীতীশ কুমারের নেতৃত্বে লড়া হবে বলে জানিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু এবার ঘরের কোন্দল সামলাতে কী করবেন তিনি? প্রশ্ন উঠছে এমনই।  

অন্যদিকে, নীতীশ কুমারের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরি। বর্তমানে বিহার বিজেপির রাজ্য সভাপতিও তিনি। এই প্রসঙ্গে অশ্বিনী বলেন, ”আগামী দিনে বিহার বিজেপির সভাপতি এমন কারওর হওয়া উচিত যে অটলজি-আডবানীজির ঘরানা থেকে আসেন।” তাঁর এই মন্তব্যে নিশানায় যে বিজেপি সভাপতি সম্রাট চৌধুরি তা বুঝতে কারওর অসুবিধে হয়নি। কারণ সম্রাট চৌধুরি আরজেডি ও জেজিইউ থেকে বিজেপিতে এসেছেন। অশ্বিনীর মন্তব্যে বিহারে নীতীশের সঙ্গে জোট নিয়ে যে জট পাকছে তা নিয়ে সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই। বিহারে কি তবে ‘একলা চলো’র নীতি নেবে বিজেপি? তা নিয়েও গুঞ্জন ছড়িয়েছে পাটনায় ক্ষমতার অলিন্দে। বিহারে প্রশাসনিক নীতি নির্ধারণ থেকে রাজনৈতিক সমীকরণে বিজেপির গলায় কাটা ফোঁটার মতোই হয়ে রয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল।

   

এবার লোকসভা ভোটে ৫৪৩ আসনের লোকসভায় বিজেপির একার শক্তি ২৪০। চন্দ্রবাবু নাইডুর তেলুগু দেশম এবং নীতীশের জেডিইউ-এর ১২ জন সাংসদ এনডিএ-র অন্দরে তাই গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য বিজেপির দাবিকে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আদৌ আমল দেবেন কি না, তা নিয়ে সন্দিহান বিরোধীরা। এদিকে বিজেপির প্রচ্ছন্ন ‘সমর্থনে’ প্রশান্ত কিশোরের জন সূরজ পার্টি তৈরি হওয়া নিয়েও খুশি নন জেডিইউ নেতারা। তাছাড়া বিহারে ভোটের আগে বিহারের জন্য ‘বিশেষ মর্যাদা’র দাবি না মিটলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে ক্রমেই বাড়ছে জল্পনা।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন