
কর্ণাটকের (Karnataka) মহিলা ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী লক্ষ্মী হেব্বালকার বুধবার বিধানসভায় ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন, কারণ তিনি গৃহলক্ষ্মী প্রকল্পের অর্থ বিতরণ সংক্রান্ত একটি ভুল উত্তর দিয়েছেন। এই স্বীকারোক্তি বিধানসভায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, যা শেষে বিজেপির ওয়াকআউটের মাধ্যমে পরিণত হয়।
হেব্বালকার স্বীকার করেছেন, দুই মাসের কিস্তি সরাসরি সুবিধাভোগীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছায়নি, যদিও তিনি জোর দিয়ে বলেন যে গৃহলক্ষ্মী প্রকল্প হলো কংগ্রেস সরকারের একটি প্রধান উদ্যোগ, যা ধর্মনিষ্ঠার সঙ্গে বাস্তবায়িত হচ্ছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, যদি তাঁর পূর্বের উত্তর সংসদের অন্যান্য সদস্যদের আঘাত দিয়ে থাকে, তবে তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছেন। এই স্বীকারোক্তির আগে, বিরোধী দল বিজেপি অভিযোগ এনেছিল যে, গৃহলক্ষ্মী প্রকল্পের অর্থপ্রদানের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার বিধানসভাকে বিভ্রান্ত করছে। প্রকল্পটির আওতায় দরিদ্র পরিবারের নারী প্রধানদের প্রতি মাসে ২,০০০ টাকা প্রদান করা হয় এবং প্রায় ১.২৬ কোটি নারী এই প্রকল্পের সুবিধাভোগী। প্রকল্পটি কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলির মধ্যে অন্যতম।
সেশনের শুরুতেই, বিজেপি সদস্যরা সংসদের ওয়েলে প্রবেশ করেন এবং মন্ত্রীর উপস্থিতি দাবি করেন। তারা স্লোগান দিয়ে হাউসের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করেন এবং একঘণ্টারও বেশি সময়ের জন্য সংসদ অধিবেশন স্থগিত করতে বাধ্য হন। বিরোধীরা জানান, তারা ইতিমধ্যেই তিনদিন ধরে হেব্বালকার কাছ থেকে প্রকল্পের বকেয়া অর্থের ব্যাখ্যা চাচ্ছিল।
বিরোধী দলের নেতা আর অশোক বলেন, বিষয়টি বিজেপির জন্য নয়, বরং সুবিধাভোগীদের পাওনা অর্থের জন্য। তিনি সংসদে দাবি করেন যে, মন্ত্রীর ভুল বক্তব্য সংসদের নথি থেকে মুছে ফেলা হোক। এছাড়াও তিনি চেয়েছিলেন, বকেয়া কিস্তি বিতরণের জন্য স্পষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হোক। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে একটি বড় রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। একদিকে, মন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে প্রকল্পের অর্থ বিতরণে কিছু বিলম্ব হয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধীরা এটিকে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করার একটি সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছেন। হেব্বালকার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে, সরকারি পক্ষ প্রকল্পের গুরুত্ব বজায় রাখতে চেয়েছিল এবং সুবিধাভোগীদের ক্ষতিপূরণের জন্য দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে ইচ্ছুক।
গৃহলক্ষ্মী প্রকল্প, যা দরিদ্র নারীদের জন্য অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদান করে, কংগ্রেস সরকারের একটি মুখ্য সামাজিক কর্মসূচি। প্রকল্পের কার্যকর বাস্তবায়ন না হলে, সুবিধাভোগীরা ক্ষুব্ধ হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়ে যায়। মন্ত্রীর স্বীকারোক্তি ও ক্ষমা প্রার্থনা, এই বিতর্ককে সামলানোর জন্য একটি কৌশল হিসেবে দেখা যায়।
বিধানসভায় বিজেপির ওয়াকআউট ও দীর্ঘস্থায়ী ধ্বনি-ধারণা রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়। এটি প্রমাণ করে যে সামাজিক প্রকল্পের অর্থবিতরণে যে কোনো বিলম্ব শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক প্রভাবও ফেলতে পারে।










