দেবী মূর্তি অবমাননায় সুপ্রিয়ার মন্তব্য কে কটাক্ষ বিজেপির

bjp slams supriya sule

মহারাষ্ট্রের পুনে জেলার পাউড গ্রামে নাগেশ্বর মন্দিরে অন্নপূর্ণা দেবীর মূর্তি অপবিত্রকরণের অভিযোগে রাজনৈতিক (bjp) দলগুলির নেতারা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এই ঘটনা গত ২ মে ২০২৫-এ ঘটেছে , যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে এবং গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে একজন ৪৪ বছর বয়সী ব্যক্তি এবং তার ১৬ বছর বয়সী পুত্রকে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার ও আটক করেছে।

   

রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিক্রিয়া

এনসিপি (এসপি) নেত্রী এবং লোকসভা সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে রবিবার, ৪ মে, এক্স-এ একটি পোস্টে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি লিখেছেন, “পাউড গ্রামের অন্নপূর্ণা দেবী মন্দিরে একজন যুবক অশোভন কাণ্ড ঘটিয়েছে। এই ঘটনা অত্যন্ত ঘৃণ্য ও ক্রোধজনক।

কোনও সংবেদনশীল ব্যক্তি এই ধরনের আচরণ কখনও সহ্য করতে পারে না। আমি সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, এই যুবকের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোরতম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।” তিনি সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য সকলকে সংযত থাকার আহ্বানও জানিয়েছেন।

বিজেপি নেত্রী চিত্রা ওয়াঘও এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন (bjp)

শিবসেনা সাংসদ শ্রীরঙ্গ বার্নে এবং বিজেপি (bjp) নেত্রী চিত্রা ওয়াঘও এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। চিত্রা ওয়াঘ সুপ্রিয়া সুলের প্রতিক্রিয়াকে “নরম” বলে সমালোচনা করেছেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী পঙ্কজ রাজেশ ভোয়ারও বলেছেন, “এই ঘটনা সম্পর্কে আমি সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করব এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”

বৃহস্পতি গ্রহের ঘূর্ণিঝড় অস্ট্রেলিয়ার আয়তনের চেয়েও বড়! জুনো মহাকাশযানের নতুন আবিষ্কার

ঘটনার বিবরণ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২ মে সন্ধ্যায় পাউড গ্রামের নাগেশ্বর মন্দিরে ১৯ বছর বয়সী চাঁদ নওশাদ শেখ নামে এক যুবক মন্দিরে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দেয় এবং অন্নপূর্ণা দেবীর মূর্তি উৎখাত করে অপবিত্র করে। এই ঘটনা মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা শিবাজি মারুতি ওয়াঘভালে (৩৪) এই ঘটনার অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ চাঁদ শেখ এবং তার পিতা নওশাদ শেখের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১৯৬, ২৯৮, ২৯৯, ৩০২, ৩৫১(২) এবং ৩(৫) ধারায় মামলা দায়ের করেছে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, অভিযুক্ত যুবক মন্দিরে প্রবেশ করে মূর্তিটি ভেঙে ফেলে এবং অশোভন আচরণ করে। এই ফুটেজ দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। গ্রামবাসীরা অভিযুক্তদের একজনকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পাউড পুলিশ স্টেশনের সিনিয়র ইন্সপেক্টর সন্তোষ গিরিগোসাভি জানিয়েছেন, অভিযুক্ত পরিবারের সঙ্গে স্থানীয়দের কথোপকথনের সময় তারা উদাসীনতা প্রকাশ করে।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও পুলিশি ব্যবস্থা

এই ঘটনার পর পাউড গ্রামে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা শনিবার, ৩ মে, পাউড পুলিশ স্টেশনে একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিল বের করে। তারা “জয় শ্রী রাম” (bjp) এবং “পাকিস্তান মুর্দাবাদ” স্লোগান দিতে থাকে। গ্রামবাসীরা মুলশি তালুকায় “বন্ধ” ডাক দেয় এবং সোমবার, ৫ মে, এই বন্ধ পালনের ঘোষণা করে।

পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মুলশি তালুকায় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপয়েন্ট স্থাপন করেছে এবং পাশের মন্দির ও মসজিদে অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। পাউড পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্তদের আদালতে পেশ করা হয়েছে, এবং আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া

সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনা তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এক্স-এ একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে, “চাঁদ শেখ অন্নপূর্ণা দেবীর মূর্তিতে প্রস্রাব করে অপবিত্র করেছে। তার পিতা নওশাদ শেখ হিন্দুদের উপহাস করে বলেছেন, ‘তোমরা কিছুই করতে পারবে না।’” এই ধরনের পোস্টগুলি সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। সাকাল হিন্দু সমাজ ৫ মে মুলশিতে একটি বৃহৎ প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করে, যা এক্স-এ ভাইরাল হয়েছে।

রাজনৈতিক বিতর্ক

এই ঘটনা রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিজেপি (bjp) নেতা নিতেশ রানে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন এবং সুপ্রিয়া সুলের প্রতিক্রিয়াকে দুর্বল বলে সমালোচনা করেছেন। ইকনমিক টাইমস-এর একটি পোস্টে বলা হয়েছে, “বিজেপি (bjp) সুপ্রিয়া সুলের ‘নরম প্রতিক্রিয়া’র জন্য তাকে কটাক্ষ করেছে।” তবে, সুপ্রিয়া সুলে তার পোস্টে স্পষ্টভাবে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যা তার অবস্থানকে শক্তিশালী করে।

পাউড গ্রামের নাগেশ্বর মন্দিরে অন্নপূর্ণা দেবীর মূর্তি অপবিত্রকরণের ঘটনা মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক নেতারা, বিশেষ করে সুপ্রিয়া সুলে, শ্রীরঙ্গ বার্নে এবং চিত্রা ওয়াঘ, এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশি ব্যবস্থা এবং স্থানীয়দের প্রতিবাদ সত্ত্বেও, এই ঘটনা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর প্রভাব ফেলতে পারে। আগামী দিনে পরিস্থিতি কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়, তা পুনে জেলার শান্তি ও আইনশৃঙ্খলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন