
দিল্লির রাজনীতিতে ফের উত্তাপ তৈরি হয়েছে শিখ গুরুকে কেন্দ্র করে। সাধারণ মানুষ দলের (AAP) বিধায়ক অতিশীকে (Atishi) শিখ গুরু সম্বন্ধে অপমানজনক মন্তব্যের অভিযোগে বিজেপি গ্রেফতারের দাবি তুলেছে। এই অভিযোগকে অতিশী(Atishi) দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব দাবি শুধুই দিল্লি বিধানসভায় বাতাসের দূষণ নিয়ে থমকে থাকা আলোচনাকে সরানোর জন্য রাজনৈতিক চালচিত্র। বুধবার, প্রাক্তন সাংসদ এবং সিনিয়র বিজেপি নেতা রমেশ বিদুরীর নেতৃত্বে দলের একাংশ পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ৭ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এক ভিডিওতে অতিশী গুরু তেগবাহাদুরের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। বিজেপি দাবি করেছে, এই মন্তব্যগুলো চরমভাবে উস্কানিমূলক, আঘাতমূলক এবং শিখ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এই মন্তব্য “সচেতনভাবে এবং পূর্ণ সচেতনতার সঙ্গে” করা হয়েছে। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এমন বক্তব্য সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে ক্ষুণ্ন করতে পারে। বিজেপি নেতারা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন অবিলম্বে FIR নথিভুক্ত করার এবং প্রাসঙ্গিক আইনি ধারায় অতিশীর গ্রেফতারের ব্যবস্থা নেওয়ার। AAP নেতারা বিজেপির এই পদক্ষেপকে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত বলে প্রতিহত করেছেন। দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, অতিশী (Atishi) কোনোভাবেই শিখ গুরু বা শিখ সম্প্রদায়কে অপমান করেননি। বরং, বিজেপির পক্ষ থেকে এই বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে বর্তমান রাজ্য সরকারের কার্যকলাপে নজর ঘোরানোর জন্য। বিশেষ করে, দিল্লির বাতাসের দূষণ এবং স্বাস্থ্যঝুঁকির সমস্যার আলোচনাকে ফোকাস থেকে সরানোর জন্য এই ধরনের অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের ঘটনা দিল্লি রাজনীতির বৈচিত্র্য এবং চরম রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রতিফলন। শিখ সম্প্রদায় অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে। অতএব, বিজেপি এই ইস্যুকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে। অন্যদিকে, AAP মনে করছে, এটি সরাসরি বিরোধী দলনেতার ইমেজ ক্ষুণ্ণ করার প্রচেষ্টা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তারা ঘটনার ভিডিও এবং অন্যান্য প্রমাণাদি সংগ্রহ করছে। প্রাথমিক পর্যায়ে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ভিডিও এবং মন্তব্যের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় দেখা হবে এবং প্রয়োজনে প্রাসঙ্গিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









