BJP’s Ayushman Bharat Scheme and Health Sathi Face Setbacks in Bengal
শনিবার, ৫ এপ্রিল, ভারতীয় জনতা পার্টি (bjp) নেতৃত্বাধীন দিল্লি সরকার কেন্দ্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে দিল্লিতে আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (এবি-পিএমজেএওয়াই) কার্যকর করা হবে। দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির ইশতেহারে এই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
এই পদক্ষেপের লক্ষ্য জাতীয় রাজধানীতে স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানো। এর ফলে দিল্লি এখন ৩৫তম রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে এই স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্পের আওতায় এসেছে। পশ্চিমবঙ্গ এখন একমাত্র রাজ্য যেখানে এই প্রকল্প এখনও কার্যকর হয়নি।
.
এই সমঝোতা স্মারক কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার উপস্থিতিতে স্বাক্ষরিত হয়। এতে জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ (এনএইচএ) এবং দিল্লি সরকারের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্প বাস্তবায়নের শীর্ষ সংস্থা।
বিজেপির (bjp) প্রতিশ্রুতি পূরণ
দিল্লিতে ২৬ বছরেরও বেশি সময় পর গত ফেব্রুয়ারিতে বিজেপি (bjp) ক্ষমতায় আসে। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এবং তার ছয় মন্ত্রী ২০ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়ার পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই এই প্রকল্প কার্যকর করার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে দিল্লির জনগণের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিল। এই এমওইউ স্বাক্ষরের মাধ্যমে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে আরেকটি পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প কী?
আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পটি ২৭টি বিশেষত্বে ১,৯৬১টি চিকিৎসা পদ্ধতির জন্য বিনামূল্যে এবং নগদবিহীন চিকিৎসা প্রদান করে। এর আওতায় ওষুধ, ডায়াগনস্টিক পরিষেবা, হাসপাতালে ভর্তি, আইসিইউ সেবা, অস্ত্রোপচার এবং আরও অনেক কিছুর খরচ কভার করা হয়। দিল্লির যোগ্য পরিবারগুলো এই প্রকল্পের অধীনে বছরে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্য বীমা পাবে। এর মধ্যে ৫ লক্ষ টাকা কেন্দ্রীয় সরকার এবং অতিরিক্ত ৫ লক্ষ টাকা দিল্লি সরকারের পক্ষ থেকে সংযোজন হিসেবে দেওয়া হবে।
দিল্লির জন্য তাৎপর্য
এই প্রকল্প কার্যকর হওয়ায় দিল্লির লক্ষ লক্ষ বাসিন্দা উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাবেন। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা (bjp) বলেন, “আমরা দিল্লির মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য করতে চাই। আয়ুষ্মান ভারত আমাদের সেই লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যাবে।” তিনি জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দরিদ্র এবং মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো বিনামূল্যে উচ্চমানের চিকিৎসা পাবে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা বলেন, “দিল্লির জনগণের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক দিন। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পটি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিপ্লব এনেছে। আমরা খুশি যে দিল্লিও এখন এর অংশ হলো।” তিনি আরও জানান, এই প্রকল্প দেশের ৩৫টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কার্যকর হয়েছে।
তিলক প্রথম নন! IPL ইতিহাসে ‘রিটায়ার্ড আউট’ তালিকায় রয়েছেন তিন ভারতীয়
পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান
পশ্চিমবঙ্গ এখনও এই প্রকল্পের বাইরে রয়েছে। রাজ্য সরকার এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পে যোগ দিতে অস্বীকার করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের দাবি, তাদের নিজস্ব স্বাস্থ্য প্রকল্প ‘স্বাস্থ্য সাথী’ যথেষ্ট কার্যকর। তবে, এই সিদ্ধান্তের জন্য রাজ্যের বিরোধী দলগুলো তাদের সমালোচনা করে আসছে।
দিল্লির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
দিল্লিতে বিজেপির ক্ষমতায় আসা ২৬ বছর পর একটি বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন। ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম দিল্লিতে বিজেপি সরকার গঠন করেছে। আগে আম আদমি পার্টি (আপ) দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিল। বিজেপি নির্বাচনে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প কার্যকর করা তাদের প্রথম বড় পদক্ষেপ।
জনগণের প্রতিক্রিয়া
দিল্লির বাসিন্দারা এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একজন স্থানীয় বলেন, “আমাদের পরিবারের জন্য ১০ লক্ষ টাকার বীমা একটি বড় সুবিধা। এতে চিকিৎসার খরচ নিয়ে চিন্তা কমবে।” আরেকজন বলেন, “সরকারের এই উদ্যোগ আমাদের জীবনকে সহজ করবে।” তবে, কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন যে, এই প্রকল্প কার্যকর করতে কতটা সময় লাগবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
দিল্লি সরকার জানিয়েছে, তারা শীঘ্রই যোগ্য পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করবে এবং আয়ুষ্মান কার্ড বিতরণ শুরু করবে। জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে হাসপাতালগুলোকে এই প্রকল্পের জন্য প্রস্তুত করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী গুপ্তা বলেন, “আমরা চাই প্রতিটি দিল্লিবাসী এই সুবিধা পাক।” এই পদক্ষেপ দিল্লির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। বিজেপি সরকারের এই উদ্যোগ জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে কিনা, তা সময়ই বলবে।