
একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট কীভাবে গোটা একটি (communal violence)সীমান্ত শহরকে অচল করে দিতে পারে, তার জলজ্যান্ত উদাহরণ এখন নেপালের বীরগঞ্জ। একটি টিকটক ভিডিওকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ক্রমেই রূপ নেয় হিংসাত্মক আন্দোলনে।
পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে স্থানীয় প্রশাসন অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্ফু জারি করতে বাধ্য হয়। শুধু তাই নয়, হিংসায় জড়িত কাউকে দেখামাত্র গুলি চালানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
অগ্নিবীরদের জন্য নতুন নিয়ম! লঙ্ঘন করলেই বাদ সেনাবাহিনী নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে
নেপালি সংবাদমাধ্যম ‘দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট’ এবং ‘দ্য হিমালয়ান টাইমস’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত নেপালের ধনুশা জেলায়। সেখানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি টিকটক ভিডিওতে এক নির্দিষ্ট ধর্মকে অবমাননার অভিযোগ ওঠে দুই যুবকের বিরুদ্ধে। এই ভিডিও ঘিরেই প্রথমে ক্ষোভ তৈরি হয় স্থানীয় স্তরে। অভিযোগ, ধনুশার কমলা পুরসভা এলাকার একটি মসজিদে ভাঙচুর চালানো হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
ধনুশার ঘটনার প্রতিবাদে খুব দ্রুত বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে ভারতের বিহার সীমান্ত লাগোয়া নেপালের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শহর বীরগঞ্জে। রবিবার থেকেই একাধিক গোষ্ঠী রাস্তায় নেমে টায়ার জ্বালিয়ে, স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। সোমবার সেই বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করে। পুলিশের অভিযোগ, উত্তেজিত জনতা একটি পুলিশ ফাঁড়িতেও ভাঙচুর চালায়। আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে শুরু করায় প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়ে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রথমে সোমবার সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত কার্ফু জারি করে বীরগঞ্জ জেলা প্রশাসন। কিন্তু তাতেও উত্তেজনা কমেনি। মঙ্গলবার পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ায় কার্ফুর মেয়াদ বাড়ানো হয় এবং শেষ পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্ফু জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বীরগঞ্জ নেপালের পারসা জেলায় অবস্থিত। শহরের একটি বড় অংশকে ‘রেস্ট্রিক্টেড জোন’ বা নিষিদ্ধ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে প্রশাসন। এই এলাকায় সব ধরনের জমায়েত, মিছিল, সভা, বিক্ষোভ এমনকি সাধারণ চলাফেরাও সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তরফে জারি করা নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে বিনা প্রয়োজনে কেউ বাড়ির বাইরে বের হতে পারবেন না। কোনও ধরনের সভা, মিছিল বা সমাবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইন অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে দেখামাত্র গুলি চালানোর নির্দেশও কার্যকর করা হতে পারে।
তবে সাধারণ মানুষের ন্যূনতম পরিষেবা নিশ্চিত করতে জরুরি পরিষেবাগুলিকে কার্ফুর আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। অ্যাম্বুল্যান্স, দমকল, শববাহী যান, সংবাদমাধ্যমের গাড়ি, পর্যটক ও দূতাবাসের যানবাহন চলাচলে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
ভারত-নেপাল সীমান্তের এত কাছাকাছি এই ধরনের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বিগ্ন নয়াদিল্লিও। ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি এবং সতর্কতা। বর্তমানে বীরগঞ্জ সংলগ্ন ভারত-নেপাল সীমান্তে প্রচুর পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।




