রাস্তায় গর্তের খোঁজ দিলেই ৫০০০ টাকা দেবে NDA সরকার

দীর্ঘদিনের চেনা সমস্যা—ভাঙাচোরা রাস্তা ও বিপজ্জনক গর্ত। বর্ষা এলেই এই সমস্যা আরও প্রকট হয়ে ওঠে। পথ দুর্ঘটনা, যানজট, অ্যাম্বুল্যান্স চলাচলে বাধা—সব কিছুর মূলে থাকে এই…

bihar-nda-government-reward-5000-report-road-potholes

দীর্ঘদিনের চেনা সমস্যা—ভাঙাচোরা রাস্তা ও বিপজ্জনক গর্ত। বর্ষা এলেই এই সমস্যা আরও প্রকট হয়ে ওঠে। পথ দুর্ঘটনা, যানজট, অ্যাম্বুল্যান্স চলাচলে বাধা—সব কিছুর মূলে থাকে এই রাস্তায় গর্ত। এবার সেই সমস্যার মোকাবিলায় অভিনব উদ্যোগ নিল NDA শাসিত বিহার সরকার। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে রাস্তার গর্ত চিহ্নিত করতে চালু হল নতুন প্রকল্প— “গাড্ডা বাতাও, ৫০০০ পাও”।

Advertisements

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে এই প্রকল্প কার্যকর হবে। রাজ্যের যে কোনও নাগরিক যদি রাস্তায় বড় গর্তের সন্ধান পান এবং তা নির্দিষ্ট সরকারি হেল্পলাইনে জানিয়ে দেন, তাহলে গর্তটি যাচাইয়ের পর রিপোর্টকারীকে ৫,০০০ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। মূল লক্ষ্য, দ্রুততার সঙ্গে রাস্তার ক্ষতিগ্রস্ত অংশ চিহ্নিত করে মেরামতের কাজ শুরু করা।

   

কীভাবে কাজ করবে এই প্রকল্প

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর ও অনলাইন পোর্টাল চালু করা হবে। সেখানে গর্তের ছবি, অবস্থান (লোকেশন) ও সংক্ষিপ্ত বিবরণ পাঠাতে হবে। সংশ্লিষ্ট দফতরের ইঞ্জিনিয়ার ও আধিকারিকরা সেই অভিযোগ যাচাই করবেন। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাস্তা মেরামতের কাজ শুরু হবে এবং অভিযোগকারীকে পুরস্কারের টাকা দেওয়া হবে।

সরকারের দাবি, এই উদ্যোগের ফলে শুধু প্রশাসনের উপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষও পরিকাঠামো উন্নয়নের অংশীদার হতে পারবেন। এতে যেমন স্বচ্ছতা বাড়বে, তেমনই দ্রুত সমস্যা চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক চর্চা

এই ঘোষণা সামনে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন পড়ে। সরকারি পোস্টটি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ৫ লক্ষের বেশি ভিউ এবং ৬ হাজারেরও বেশি লাইক পায়। অনেকেই এই উদ্যোগকে “জনতার সরকার” বলে প্রশংসা করেছেন। আবার অনেকে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ ও মিমের মাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে।

সংশয় ও সমালোচনা

যদিও উদ্দেশ্য প্রশংসনীয়, তবু প্রকল্পটি নিয়ে সংশয়ও কম নয়। অনেক নেটিজেন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, টাকা পাওয়ার লোভে কেউ ইচ্ছে করে রাস্তা খুঁড়ে গর্ত তৈরি করতে পারে। কেউ কেউ একে অর্থনীতির ভাষায় “কোবরা এফেক্ট”-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন—যেখানে ভালো উদ্দেশ্যে দেওয়া প্রণোদনা উল্টো ফল বয়ে আনে।

বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, আগে থেকেই রাস্তাগুলির রক্ষণাবেক্ষণ করা উচিত ছিল। এখন জনগণকে টাকা দিয়ে গর্ত খোঁজার দায়িত্ব দেওয়া আসলে প্রশাসনিক ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা। তাদের প্রশ্ন, যদি এত গর্তই না থাকত, তাহলে এমন প্রকল্পের দরকার পড়ত কেন?

সরকারের পাল্টা যুক্তি

সরকার অবশ্য এই সমালোচনা মানতে নারাজ। মুখ্যমন্ত্রীর দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, যাচাই ছাড়া কাউকে টাকা দেওয়া হবে না। একই জায়গা থেকে একাধিক অভিযোগ এলে শুধু প্রথম যাচাইকৃত অভিযোগকেই ধরা হবে। এছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতি প্রমাণিত হলে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকারের দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হবে। ফলে রাস্তা সংস্কারের কাজ আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে।

সব মিলিয়ে “গাড্ডা বাতাও, ৫০০০ পাও” প্রকল্পটি বিহারের রাজনীতিতে যেমন নতুন মাত্রা যোগ করেছে, তেমনই সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল ও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এটি সত্যিই রাস্তার গর্ত কমাতে সাহায্য করবে, নাকি নতুন সমস্যা তৈরি করবে—তা সময়ই বলবে। তবে এতদিন ধরে অবহেলিত এই সমস্যাকে সামনে এনে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে, তা বলাই যায়।

Advertisements