
পটনা: বিহারের সোনার দোকানগুলোতে এবার নতুন নিয়ম হিজাব, (Bihar gold shop)নিকাব বা হেলমেট পরে ঢোকা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মুখ না দেখিয়ে সোনা-রুপো কেনাও আর চলবে না। অল ইন্ডিয়া জুয়েলার্স অ্যান্ড গোল্ড ফেডারেশনের বিহার শাখা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে। রাজ্যজুড়ে সোনার দোকানে ডাকাতি এবং ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এই কঠোর পদক্ষেপ। দোকান মালিকরা বলছেন, মুখ ঢেকে ঢোকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে, যা অপরাধীদের সুবিধা করে দিচ্ছে।
এখন থেকে ক্রেতাদের মুখ খোলা রাখতে হবে, অন্যথায় দোকানে প্রবেশ নিষেধ।সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিহারে সোনার দোকানে ডাকাতির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। পাটনা, গয়া, ভাগলপুর, মুজাফফরপুর সহ একাধিক জেলায় দিনদুপুরে বন্দুকধারী ডাকাতরা দোকানে ঢুকে লুঠ করে চলে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ডাকাতরা হেলমেট বা মুখ ঢাকা কাপড় পরে আসছে, যা সিসিটিভি ফুটেজে তাদের চেনা কঠিন করে তুলছে।
জবাব হবে বুলডোজার!মৌলবাদীদের হুঁশিয়ারি বিজেপি মুখপাত্রের
ফেডারেশনের রাজ্য সভাপতি বলেছেন, “আমাদের কোটি কোটি টাকার মালামাল থাকে দোকানে। কর্মচারীদের জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। হেলমেট তো আগে থেকেই নিষিদ্ধ ছিল, এবার হিজাব-নিকাবও যুক্ত করা হল কারণ কিছু ঘটনায় মুখ ঢেকে অপরাধ করা হয়েছে।” তাঁর কথায়, এটা কোনো ধর্মীয় বৈষম্য নয়, শুধু নিরাপত্তার প্রশ্ন।রাজ্যের প্রায় সব বড় সোনার দোকান এবং জুয়েলারি শোরুমে এই নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে।
দোকানের সামনে বড় বড় পোস্টার লাগানো হয়েছে ‘মুখ ঢেকে প্রবেশ নিষেধ’, ‘হিজাব/নিকাব/হেলমেট খুলে ঢুকুন’। ক্রেতাদের প্রবেশের সময় সিকিউরিটি গার্ড মুখ দেখে ছাড়ছেন। মহিলা ক্রেতাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে তাঁরা চাইলে মহিলা কর্মীর সামনে হিজাব খুলে পরিচয় দিতে পারবেন। কিন্তু মুখ দেখানো বাধ্যতামূলক। ফেডারেশনের দাবি, এই নিয়মে ৯০ শতাংশের বেশি দোকান মালিক একমত।
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সমাজের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। অনেকে এটাকে নিরাপত্তার জন্য জরুরি পদক্ষেপ বলে সমর্থন করছেন। এক দোকান মালিক বলেন, “গত বছর আমার দোকানে ডাকাতি হয়েছে। হেলমেট পরে এসেছিল ডাকাতরা। এখন অন্তত চেনা যাবে।” সাধারণ ক্রেতারাও বলছেন, সোনা কেনা বড় বিনিয়োগ, নিরাপত্তা থাকলে ভালো।
কিন্তু মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়েছে। তাঁরা বলছেন, হিজাব ধর্মীয় পরিচয়ের অংশ, এটাকে হেলমেটের সঙ্গে তুলনা করা অপমানজনক। এক মহিলা বলেন, “আমরা তো ডাকাত নই। হিজাব পরে কেনাকাটা করি, এখন কী করব?” সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে এটাকে ‘ইসলামোফোবিয়া’ বলে সমালোচনা করছেন।




