পাটনা: কর্মসংস্থানের খোঁজে রাজ্যের বাইরে পাড়ি দেওয়া লক্ষ লক্ষ বিহারবাসীর (Bihar migrant workers return call)কাছে ফিরতি বার্তা দিল রাজ্য সরকার। বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, “উন্নত ও আত্মনির্ভর বিহার গড়তে হলে পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে ফিরতে হবে। সরকার সেই পরিবেশ তৈরি করতে বদ্ধপরিকর।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, রাজ্যে শিল্প ও কৃষিভিত্তিক কর্মসংস্থান বাড়িয়ে যুবসমাজকে আর বাইরে যেতে বাধ্য করা হবে না।
উপমুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য এসেছে এনডিএ সরকারের সাম্প্রতিক এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বিহার মন্ত্রিসভা রাজ্যে ২৫টি নতুন চিনিকল (সুগার মিল) স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। মূল লক্ষ্য, আখ-চাষপ্রধান এলাকাগুলিতে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলে স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং বহির্মুখী শ্রমপ্রবাহ কমানো। সম্রাট চৌধুরীর কথায়, “বিহারের গ্রামাঞ্চলে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। আখ, ধান, ভুট্টার মতো ফসলের সঙ্গে শিল্প যুক্ত হলে এখানেই কাজ মিলবে।”
মহাভারতের মাহাত্ম্য বোঝাতে লাহোরে গীতাপাঠের পরিকল্পনা
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিহারের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ২০ শতাংশ প্রতিবছর কাজের সন্ধানে অন্য রাজ্যে চলে যায়। নির্মাণ, কারখানা, হোটেল-রেস্তরাঁ থেকে শুরু করে নানা অপ্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে কাজ করেন তাঁরা। এর ফলে রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতি যেমন দুর্বল হয়, তেমনই পরিবার-সমাজেও নানা সমস্যা দেখা দেয়। সরকার মনে করছে, আখভিত্তিক শিল্প বাড়লে এই প্রবণতা অনেকটাই রোধ করা সম্ভব।
২০২৪ সালে বিহারে প্রায় ২১ লক্ষ টন আখ উৎপাদন হলেও, পর্যাপ্ত চিনিকলের অভাবে তার বড় অংশই মূল্যসংযোজন ছাড়া বিক্রি করতে হয় চাষিদের। নতুন ২৫টি চিনিকল চালু হলে শুধু চিনি উৎপাদনই নয়, ইথানল, গুড়, বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো সহ-শিল্পও গড়ে উঠবে বলে দাবি সরকারের। এতে কৃষকের ন্যায্য দাম পাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় যুবকদের জন্য স্থায়ী ও অস্থায়ী—দু’ধরনেরই কাজের সুযোগ তৈরি হবে।
ভিডিও বার্তায় উপমুখ্যমন্ত্রী পরিযায়ী শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা বিহারের সন্তান। রাজ্য আপনাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চায়। নতুন শিল্পে কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। আপনারা ফিরুন, বিহারকে গড়ুন।” তাঁর এই আহ্বান ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়ায় মিশ্র সুর শোনা যাচ্ছে। অনেকেই এই উদ্যোগকে গ্রামীণ উন্নয়নের পথে বড় পদক্ষেপ বলে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, চিনিকল ঘিরে পরিবহণ, গুদামজাতকরণ, যন্ত্রাংশ, পরিষেবা—বহু ক্ষেত্রেই নতুন ব্যবসা গড়ে উঠবে। তবে কেউ কেউ অতীতের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সতর্ক করেছেন। তাঁদের দাবি, আগেও এমন প্রকল্প ঘোষণা হলেও অর্থ বরাদ্দ ও পরিকাঠামোর অভাবে বহু উদ্যোগ মাঝপথে থমকে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, চিনিকল স্থাপন সফল করতে হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ, সড়ক যোগাযোগ, জলব্যবস্থা এবং দ্রুত প্রশাসনিক অনুমোদনের মতো বিষয়গুলিতে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ ও স্থানীয় যুবকদের স্কিল আপগ্রেডেশনের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
সব মিলিয়ে, বিহার সরকারের এই ঘোষণাকে পরিযায়ন রোধের পথে একটি বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনই ‘উন্নত বিহার’-এর স্বপ্নে ফেরার পথ খুঁজে পেতে পারেন রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকরাও।
