কলকাতা: বামপন্থা না রাষ্ট্রবাদ এই প্রশ্নে বরাবরই বামপন্থার (Bhagat Ram)দিকেই ঝুঁকেছে কমিউনিস্টরা। তার নজির মেলে ইতিহাসেও। একজন কমিউনিস্ট নেতা কিভাবে দিনের পর দিন নেতাজির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে তা হয়ত অনেকেরই জানা।
নেতাজির জন্ম দিবসের ঠিক একদিন পর এমনই একটি পোস্ট করেছেন তৃণমূল মুখপাত্র কুনাল ঘোষ। অর্ণব কুমার দাস নাম জনৈক ব্যাক্তির পোস্ট কে তুলে ধরে তিনি চিনিয়ে দিয়েছেন তৎকালীন এক কমিউনিস্ট ভগতরাম তলোয়ারকে।
রিকির জোড় গোল, দশজনের ইস্টবেঙ্গলের কাছে হার বাগানের
যিনি দিনের পর দিন নেতাজির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে গিয়েছেন এবং ধরা পড়ার পর ব্রিটিশদের কাছে নিজেকেবিকিয়ে দিয়ে রোজগার করেন প্রচুর অর্থ। সময়টা ১৯৪১ সাল। জানুয়ারি মাস। ব্রিটিশ নজরদারি এড়িয়ে স্থলপথে পেশোয়ার পৌঁছেছেন সুভাষচন্দ্র বসু। লক্ষ্য একটাই আফগানিস্তান হয়ে সোভিয়েত রাশিয়ার সাহায্য নিয়ে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া।
এই দুঃসাহসিক অভিযানে নেতাজির সঙ্গী হয়েছিলেন এক ব্যক্তি ভগতরাম তলোয়ার। সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল এমন এক বিশ্বাসঘাতকতা, যা পরাধীন ভারতের ইতিহাসের গতিপথই বদলে দেয়। ইতিহাস বলছে, ভগতরাম তলোয়ার ছিলেন তৎকালীন এক কমিউনিস্ট কর্মী।
‘সিলভার’ ছদ্মনামে তিনি একই সঙ্গে কাজ করছিলেন একাধিক আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে। নেতাজির কাবুল পৌঁছনোর পর থেকেই তাঁর উপস্থিতি ও পরিকল্পনার খবর গোপনে পাচার হতে থাকে সোভিয়েত ইন্টেলিজেন্সের কাছে। শুধু তাই নয়, সেই তথ্য পৌঁছে যায় ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই সিক্সের হাতেও।
এই সময়েই আন্তর্জাতিক রাজনীতির সমীকরণ ছিল অত্যন্ত জটিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সোভিয়েত রাশিয়া ও ব্রিটেন একই শিবিরে ছিল। ফলে সুভাষচন্দ্র বসু যে রাশিয়ার কাছ থেকে সমর্থন পাবেন এই আশা দ্রুতই ভেঙে পড়ে। ১৯৪১ সালের মার্চ মাস নাগাদ নেতাজির ‘সোভিয়েত প্ল্যান’ পুরোপুরি ভেস্তে যায়। ঐতিহাসিকদের একাংশের মতে, এর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল ভগতরাম তলোয়ারের বিশ্বাসঘাতকতা।
নেতাজি নিজেও যে এই গোয়েন্দা ব্যর্থতার বিষয়টি আঁচ করতে পেরেছিলেন, তার ইঙ্গিত পাওয়া যায় তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপে। শেষ চেষ্টা হিসেবে তিনি ইটালি–জার্মান রুট ব্যবহার করে মস্কো পৌঁছনোর পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু সেই চেষ্টাও সফল হয়নি। শেষ পর্যন্ত ১৯৪১ সালের এপ্রিল মাসে বার্লিনে পৌঁছন সুভাষচন্দ্র বসু। সেখান থেকেই শুরু হয় আজাদ হিন্দ সরকারের পরবর্তী অধ্যায়।
শুধু তাই নয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন রাশিয়া এবং ব্রিটেন ছিল একই পক্ষে তাই কমিউনিস্টরা ব্রিটিশদের সমর্থন করে এসেছে। বিপ্লবী ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তীর বই জেলে ত্রিশ বছর ও পাক-ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম বইটি থেকে জানা যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে কমিউনিস্টরা জনযুদ্ধ বলে প্রচার করার চেষ্টা করেছিল। ভারতের স্বাধীনতাকে প্রাধান্য না দিয়ে তারা কমিউনিস্ট রাশিয়াকেই সমর্থন করেছিল।
নেতাজির জন্ম দিবসের ঠিক পরেই এমন একটি পোস্ট ঘিরে তৈরী হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে ভারতের বামেরা কখনোই তাদের বামপন্থা ছেড়ে বেরোতে পারেনি। রাশিয়া বা চীন এরাও বামপন্থায় বিশ্বাসী কিন্তু এদের কাছে বামপন্থার চেয়েও বড় তাদের দেশ এমনটাও বলেছেন তারা। এছাড়াও তারা বলেছেন কখনও যদি ভারতীয় বামপন্থীরা মিথ্যে বামপন্থার ঘেরাটোপে থেকে মানুষকে চালানোর চেষ্টা করেছে তাই ভারতের মানুষ কখনোই বামপন্থিদের ক্ষমা করবে না।
