সেরা গোয়েন্দা সংস্থার নিরিখে প্রথমে নেই মোসাদ! RAW কত নম্বরে

বিশ্ব রাজনীতির অদৃশ্য ময়দানে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হল গোয়েন্দা তথ্য (Intelligence)। যুদ্ধ হোক বা সন্ত্রাস দমন, কূটনীতি কিংবা সাইবার নিরাপত্তা সব ক্ষেত্রেই গোয়েন্দা সংস্থাগুলির ভূমিকা…

best-intelligence-agencies-ranking-cia-mossad-raw

বিশ্ব রাজনীতির অদৃশ্য ময়দানে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হল গোয়েন্দা তথ্য (Intelligence)। যুদ্ধ হোক বা সন্ত্রাস দমন, কূটনীতি কিংবা সাইবার নিরাপত্তা সব ক্ষেত্রেই গোয়েন্দা সংস্থাগুলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই প্রেক্ষিতেই বিশ্বের সেরা গোয়েন্দা সংস্থার সাম্প্রতিক এক তালিকা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে চর্চার জন্ম দিয়েছে। এই তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক ইসরায়েলের কুখ্যাত ও শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ আর এক নম্বরে নেই।

Advertisements

নতুন এই র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে প্রথম স্থানে রয়েছে আমেরিকার সিআইএ (CIA)। দীর্ঘদিন ধরেই সিআইএ বিশ্ব গোয়েন্দা জগতের শীর্ষে থাকলেও সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও বৈশ্বিক প্রভাবের কারণে তাদের আধিপত্য আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

   

পারসিক কেদিরিতে লোনে যোগ দিলেন আদ্রিয়ান লুনা

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইসরায়েলের মোসাদ (Mossad)। দীর্ঘদিন ধরে টার্গেট কিলিং, গোপন অপারেশন ও শত্রু রাষ্ট্রে অনুপ্রবেশের জন্য মোসাদ বিশ্বজুড়ে কুখ্যাত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের জটিল পরিস্থিতি, হামাস ও হিজবুল্লাহ সংক্রান্ত গোয়েন্দা ব্যর্থতার অভিযোগে তাদের অবস্থান কিছুটা নড়বড়ে হয়েছে বলেই মত বিশ্লেষকদের।

তৃতীয় স্থানে রয়েছে ব্রিটেনের ঐতিহ্যবাহী গোয়েন্দা সংস্থা MI6। বিশেষত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও ইউরোপীয় নিরাপত্তা প্রশ্নে MI6-এর তথ্য সংগ্রহ ও কূটনৈতিক তৎপরতা প্রশংসিত হয়েছে। এর পরেই চতুর্থ স্থানে রয়েছে চিনের MSS (Ministry of State Security), যারা প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও সাইবার গোয়েন্দাগিরিতে দ্রুত শক্তি বাড়াচ্ছে।

পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে ভারতের RAW । সীমান্ত সন্ত্রাস, পাকিস্তান ও চিন সংক্রান্ত নজরদারি, পাশাপাশি বিদেশে কৌশলগত তথ্য সংগ্রহে RAW-এর ভূমিকা আন্তর্জাতিক মহলে গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারতের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা নীতিতে RAW-এর সক্রিয়তা চোখে পড়ার মতো।

এই তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের ISI, যাদের প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত ও বিতর্কিত। সপ্তম স্থানে ফ্রান্সের DGSE, অষ্টম স্থানে রাশিয়ার SVR, নবম স্থানে জার্মানির BND এবং দশম স্থানে অস্ট্রেলিয়ার ASIS জায়গা করে নিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক যুগে গোয়েন্দা সংস্থার শক্তি শুধু গোপন অভিযানেই সীমাবদ্ধ নয়। সাইবার স্পেস, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং কূটনৈতিক প্রভাব সব মিলিয়েই আজকের র‍্যাঙ্কিং নির্ধারিত হচ্ছে।

সেই কারণেই ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী সংস্থাগুলির অবস্থানেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, এই নতুন তালিকা বিশ্ব নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা রাজনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতাকেই তুলে ধরছে। মোসাদ দ্বিতীয় স্থানে নেমে যাওয়া শুধু একটি র‍্যাঙ্কিং পরিবর্তন নয়, বরং আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্যে আসা এক গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

Advertisements