১০ মাসে ৪০৯৮ দুর্ঘটনায় ৭০০ মৃত্যু বাঙালি প্রধান শহরে

দুর্ঘটনায় মৃতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যা দুই চাকার যানচালকের। মোট মৃত্যুর প্রায় ৭০ শতাংশই বাইক ও স্কুটার আরোহী। শহরের অতিরিক্ত যানঘনত্ব, নিয়ম না মেনে গতি বাড়ানো, হেলমেট না পরা এবং রাতের বেলা খারাপ দৃশ্যমানতা—সব মিলিয়েই বেঙ্গালুরুর রাস্তায় বিপদ বেড়েছে বহুগুণ।

bengaluru-road-accidents-10-months-4098-crashes-700-deaths

দেশের অন্যতম তথ্যপ্রযুক্তি নগরী ও বাঙালি অধ্যুষিত শহর বেঙ্গালুরু-তে ভয়াবহ আকার নিচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনা (Bengaluru Road Accidents)। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর—এই মাত্র ১০ মাসেই শহরে ঘটেছে মোট ৪০৯৮টি সড়ক দুর্ঘটনা। এই দুর্ঘটনাগুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৭০০ জন। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই সংখ্যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। আইটি কর্মী, পরিযায়ী শ্রমিক থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রী—বিভিন্ন স্তরের মানুষ এই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাঙালিও রয়েছেন।

Karnataka Police সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় মৃতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যা দুই চাকার যানচালকের। মোট মৃত্যুর প্রায় ৭০ শতাংশই বাইক ও স্কুটার আরোহী। শহরের অতিরিক্ত যানঘনত্ব, নিয়ম না মেনে গতি বাড়ানো, হেলমেট না পরা এবং রাতের বেলা খারাপ দৃশ্যমানতা—সব মিলিয়েই বেঙ্গালুরুর রাস্তায় বিপদ বেড়েছে বহুগুণ।

   

বিশেষ করে বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিয়েছে। টানা বৃষ্টিতে বহু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। কোথাও গর্ত ঢেকে যায়, কোথাও আবার নিকাশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। ফলে চালকদের পক্ষে রাস্তার অবস্থা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে এবং সামান্য অসাবধানতাতেই ঘটে মারাত্মক দুর্ঘটনা। ট্রাফিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শহরের পরিকাঠামো দ্রুত যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না।

বেঙ্গালুরুতে বসবাসকারী বাঙালিদের মধ্যে এই নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আইটি সেক্টরে কাজ করতে এসে অনেকেই বাইক বা স্কুটারকেই যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেন। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, মানসিক চাপ এবং সময় বাঁচানোর তাগিদে অনেক সময়েই তারা গতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন না। এর ফলেই দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন সমাজকর্মীরা।

শহরের ট্রাফিক বিভাগের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার বড় কারণগুলির মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত গতি, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং ট্রাফিক নিয়ম ভাঙা। যদিও নিয়মিত চেকিং ও জরিমানার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, তবুও সচেতনতার অভাব থেকেই যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, হেলমেট বা সিটবেল্ট না পরেই মানুষ রাস্তায় নামছেন।

এই পরিস্থিতি শুধু বেঙ্গালুরুতেই সীমাবদ্ধ নয়। গোটা দেশজুড়েই সড়ক দুর্ঘটনা একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। Ministry of Road Transport and Highways (মোর্থ)-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রতি বছর প্রায় ১ লক্ষ ৬৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় সড়ক দুর্ঘটনায়। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিসংখ্যানের নিরিখে কর্নাটক রাজ্য দেশের মধ্যে পঞ্চম স্থানে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু জরিমানা বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না। শহরে আধুনিক এআই-ভিত্তিক ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করা, স্মার্ট সিগন্যাল, স্পিড ক্যামেরা এবং পথচারীদের জন্য নিরাপদ জেব্রা ক্রসিং বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি স্কুল-কলেজ ও অফিসপাড়ায় নিয়মিত সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচিরও প্রয়োজন রয়েছে।

সব মিলিয়ে, ১০ মাসে ৪০৯৮টি দুর্ঘটনা ও ৭০০ জনের মৃত্যু বেঙ্গালুরুর মতো উন্নত শহরের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক বার্তা দিচ্ছে। প্রশাসন, ট্রাফিক পুলিশ এবং সাধারণ মানুষ—তিন পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই মরণফাঁদ থেকে শহরকে রক্ষা করা কঠিন। বিশেষ করে বাঙালি অধ্যুষিত এই মহানগরে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন