লখনউ: উত্তরপ্রদেশের বারেলি জেলার মহম্মদগঞ্জ গ্রামে বিশারতগঞ্জ (Bareilly)এলাকায় শুক্রবার জুম্মার নামাজ পড়া নিয়ে নতুন বিতর্ক। পুলিশ ১২ জনকে আটক করেছে, কারণ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি খালি বাড়িতে অনুমতি ছাড়া নামাজ পড়া হচ্ছিল। এই ঘটনা ১৬ জানুয়ারি শুক্রবার ঘটলেও রবিবার পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
তিনজন অভিযুক্ত এখনও পলাতক, তাদের খোঁজ চলছে।পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) অংশিকা ভার্মা জানিয়েছেন, গ্রামবাসীদের থেকে অভিযোগ আসে যে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই খালি বাড়িটিকে অস্থায়ী মাদ্রাসা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যাতে দেখা যায় লোকজন বাড়ির ভিতরে ও বাইরে নামাজ পড়ছেন। এই ভিডিও দেখে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সমাবেশ বন্ধ করে দেয় এবং উপস্থিত ১২ জনকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে আটক করে।
HAL-এ শিক্ষানবিশ হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ, লিখিত বা সাক্ষাৎকার ছাড়াই নির্বাচন করা হবে নিয়োগ
তদন্তে জানা যায়, বাড়িটি হানিফ নামে এক ব্যক্তির, এবং এটিকে অস্থায়ীভাবে জুম্মার নামাজের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল। অভিযুক্তরা কোনো লিখিত অনুমতি বা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।পুলিশ জানিয়েছে, এই ধরনের নতুন ধর্মীয় সমাবেশ বা কার্যকলাপ অনুমতি ছাড়া আইন লঙ্ঘন। শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আটকদের শান্তি ভঙ্গের ধারায় চালান করা হয়েছে এবং ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে পেশ করার পর জামিন মিলেছে। পুলিশ আরও বলেছে, এমন ঘটনা যদি আবার ঘটে, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকাবাসীদের শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে কেউ কেউ পুলিশের পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন, বলছেন যে আইনের শাসন বজায় রাখা দরকার।
অন্যদিকে সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন, একটি খালি বাড়িতে জুম্মার নামাজ পড়া কীভাবে শান্তি ভঙ্গ করে? অনেকে মনে করছেন, এটি ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ। ভিডিওতে দেখা যায়, লোকজন মাদুর পেতে নামাজ পড়ছেন, কোনো উচ্চস্বরে আওয়াজ বা বিশৃঙ্খলা নেই। এই ঘটনা উত্তরপ্রদেশে ধর্মীয় সমাবেশ নিয়ে চলতি বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে।
উত্তরপ্রদেশে এর আগেও এমন কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে, যেখানে বাড়িতে বা ব্যক্তিগত জমিতে নামাজ পড়ার জন্য অভিযোগ উঠেছে এবং পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। যেমন, ২০২৫ সালে বারেলিরই আরেকটি গ্রামে অনুরূপ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এই ধরনের ঘটনাগুলো প্রায়ই ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও আইনের প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
