Home Bharat Bangladeshi immigrants: নির্বাসনের পর ফের অনুপ্রবেশ, মুম্বইয়ে গ্রেফতার পর পর বাংলাদেশি মহিলা

Bangladeshi immigrants: নির্বাসনের পর ফের অনুপ্রবেশ, মুম্বইয়ে গ্রেফতার পর পর বাংলাদেশি মহিলা

bangladeshi-women-illegal-immigrants-arrested-mumbai-police

মুম্বই: দেশের অর্থনৈতিক রাজধানী মুম্বইয়ে ফের বেআইনি অনুপ্রবেশের (Bangladeshi illegal immigrants) চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এল। মুম্বই পুলিশের জালে ধরা পড়লেন একের পর এক বাংলাদেশি মহিলা অনুপ্রবেশকারী। সম্প্রতি দক্ষিণ মুম্বই ও শহরতলি এলাকায় পৃথক অভিযানে ৩০ ও ৩৮ বছর বয়সি দুই বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, এই দুই মহিলা আগেও বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এবং ২০২৫ সালের অগস্ট মাসে তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু অবাক করার বিষয়, নির্বাসনের পরও তাঁরা ফের ভারতে ঢুকে পড়েন।

Advertisements

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত দুই মহিলা পশ্চিমবঙ্গের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা গোজাডাঙার কাছাকাছি জঙ্গলঘেরা দুর্গম পথ ব্যবহার করে ফের ভারতে প্রবেশ করেন। সীমান্তে বিএসএফের নজরদারি ও টহল বাড়ানো হলেও এই ধরনের প্রত্যন্ত বনাঞ্চল ও নদীঘেরা এলাকাগুলিতে এখনও অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণভাবে রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে মানব পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশের সঙ্গে যুক্ত দালালচক্র সক্রিয় থাকায় এই সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠছে।

   

মুম্বই পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত মহিলারা শহরে এসে ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরি করে গৃহকর্মী ও অস্থায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করছিলেন। নগরীর বিভিন্ন বস্তি ও শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকায় তাঁদের লুকিয়ে থাকার পরিকল্পনা ছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। প্রাথমিক জেরায় তাঁরা স্বীকার করেছেন, বাংলাদেশে আর্থিক অনটনের কারণে এবং মুম্বইয়ের মতো বড় শহরে কাজের সুযোগ বেশি থাকার আশায় ফের ভারতে প্রবেশ করেছিলেন।

এই ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ২০২৫ সালে সারা দেশে অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে দেশজুড়ে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নির্বাসনের সংখ্যা প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা, বেঙ্গালুরু-সহ একাধিক মহানগরে একের পর এক ধরপাকড় ও ফেরত পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে। তবুও বারবার একই ব্যক্তিদের অনুপ্রবেশ প্রশাসনের নজরদারি ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র সীমান্তে কাঁটাতার বা টহল বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে দালালচক্রের আর্থিক প্রলোভন, নদী ও জঙ্গলের জটিল ভূগোল এবং স্থানীয় স্তরে নজরদারির ঘাটতি—এই সব মিলিয়েই অনুপ্রবেশ রোধ করা কঠিন হয়ে উঠছে। পাশাপাশি দেশের বড় শহরগুলিতে সস্তা শ্রমের চাহিদাও অবৈধ অনুপ্রবেশকে উৎসাহ দিচ্ছে বলে মত সমাজবিজ্ঞানীদের।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। একাধিক এক্স (সাবেক টুইটার) থ্রেডে সাধারণ মানুষ সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী বিএসএফের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অনেকেই দাবি করেছেন, বারবার একই ব্যক্তির অনুপ্রবেশ প্রমাণ করছে যে সীমান্ত এখনও পুরোপুরি সুরক্ষিত নয়। কেউ কেউ আবার কঠোর শাস্তি ও দীর্ঘমেয়াদি আটক কেন্দ্রের দাবি তুলেছেন। মহারাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বেআইনি অভিবাসন নিয়ে যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে, এই ঘটনা সেই আবহ আরও জোরালো করল।

মুম্বই পুলিশ ইতিমধ্যেই ধৃত মহিলাদের বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্ট ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা রুজু করেছে। পাশাপাশি তাঁদের সঙ্গে যুক্ত দালাল ও সহায়তাকারীদের খোঁজে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, ভবিষ্যতে যাতে নির্বাসিত ব্যক্তিরা ফের অবৈধভাবে দেশে ঢুকতে না পারেন, সে জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য স্তরে তথ্য ভাগাভাগি এবং নজরদারি আরও কড়া করা হবে।

এই ঘটনার পর আবারও প্রশ্ন উঠছে—বারবার অনুপ্রবেশের এই চক্র ভাঙতে কি শুধুই পুলিশি ব্যবস্থা যথেষ্ট, নাকি সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও অভিবাসন নীতিতে বড়সড় সংস্কার জরুরি? আপাতত মুম্বইয়ে ধরা পড়া এই দুই বাংলাদেশি মহিলার ঘটনা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল।

Advertisements