মুম্বই: সীমান্তে কড়া নজরদারি, একাধিকবার পুশব্যাক এবং ডিপোর্টেশন সব (Bangladeshi)কিছুকে কার্যত উপেক্ষা করেই ফের ভারতে অনুপ্রবেশ। এবার মুম্বইয়ে গ্রেফতার হলেন এক বাংলাদেশি মহিলা, যাঁকে আগেও অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। ঘটনাটি নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মুম্বইয়ের ঐতিহাসিক গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়া সংলগ্ন এলাকা থেকে ৩৮ বছর বয়সি ওই বাংলাদেশি মহিলাকে আটক করে কোলাবা থানার পুলিশ। সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করার সময় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি বৈধ কোনও ভারতীয় নথি দেখাতে ব্যর্থ হন। পরে পুলিশি তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য এই মহিলা এর আগেও ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছিলেন এবং ২০২৫ সালের অগস্ট মাসে তাঁকে বাংলাদেশে ডিপোর্ট করা হয়েছিল।
১৫০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে আধার কার্ড! বিপাকে রাজ্য সরকার
আগেও ডিপোর্ট, তবু ফের অনুপ্রবেশ
পুলিশ জানিয়েছে, ওই মহিলা কীভাবে আবার ভারতের ভেতরে প্রবেশ করলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক অনুমান, তিনি সীমান্তের কোনও দুর্বল অংশ ব্যবহার করেই ফের দেশে ঢুকেছেন। সীমান্তে পুশব্যাক ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও এই অনুপ্রবেশ প্রশাসনের জন্য বড়সড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কোলাবা থানার এক আধিকারিক জানান, “ওই মহিলার বিরুদ্ধে Foreigners Act অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে। তিনি কী উদ্দেশ্যে ফের ভারতে প্রবেশ করেছিলেন, তাঁর সঙ্গে কোনও দালালচক্র বা মানব পাচারকারীদের যোগাযোগ ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন
এই ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন মহানগরী থেকে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের গ্রেফতারের ঘটনা সামনে আসছে। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শুধুমাত্র মুম্বইতেই ৪০১টি মামলা রুজু হয়েছিল সন্দেহভাজন অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে।
ওই বছরেই মুম্বই পুলিশ ও প্রশাসনের উদ্যোগে ১,০০১ জনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। শুধু মুম্বই নয়, দিল্লি-সহ একাধিক রাজ্যেও একই চিত্র। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দিল্লি থেকে প্রায় ২,২০০ জন অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিককে ডিপোর্ট করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট, অবৈধ অনুপ্রবেশ একটি জাতীয় স্তরের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভোটের আগে কড়া পদক্ষেপ
বিশেষজ্ঞদের মতে, আসন্ন পুরসভা ও বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই বিভিন্ন রাজ্যে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে নজরদারি ও ধরপাকড় আরও জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশিরা শুধু নিরাপত্তা নয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর উপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে মুম্বইয়ের ঘটনাটি প্রশাসনের কাছে একটি বড় সতর্কবার্তা। একবার ডিপোর্ট হওয়ার পরও কীভাবে একজন ব্যক্তি নির্বিঘ্নে ফের দেশে ঢুকে পড়ছেন, তা নিয়ে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
জনমনে ক্ষোভ
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে বহু মানুষ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। অনেকের বক্তব্য, বারবার পুশব্যাক ও ডিপোর্টেশন সত্ত্বেও যদি একই ব্যক্তি ফের অনুপ্রবেশ করতে পারেন, তবে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
বর্তমানে ধৃত ওই বাংলাদেশি মহিলা পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। তদন্ত শেষ হলে তাঁকে ফের বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তবে এই ঘটনা নিঃসন্দেহে ভারতের সীমান্ত সুরক্ষা ও অভিবাসন নীতির বাস্তব রূপ নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন রেখে গেল।


