অভাবে পড়ে ফের ভারতের কাছ থেকে পেঁয়াজ আমদানি বাংলাদেশের

কলকাতা: বহুদিন ধরে রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক, আবেগপ্রবণ মন্তব্য, সামাজিক মাধ্যমে শোরগোল (Bangladesh resumes onion import)সব মিলিয়ে ভারত–বাংলাদেশ পেঁয়াজ ইস্যু যেন দুই দেশের সম্পর্কের এক অদ্ভুত ছায়া…

bangladesh-resumes-onion-import-from-india-price-hike-analysis

কলকাতা: বহুদিন ধরে রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক, আবেগপ্রবণ মন্তব্য, সামাজিক মাধ্যমে শোরগোল (Bangladesh resumes onion import)সব মিলিয়ে ভারত–বাংলাদেশ পেঁয়াজ ইস্যু যেন দুই দেশের সম্পর্কের এক অদ্ভুত ছায়া হয়ে উঠেছিল। বিশেষ করে বাংলাদেশের কিছু মহলে “ভারতীয় পেঁয়াজ না–খাওয়ার” প্রচার, ভারতকে অর্থনৈতিকভাবে বিপদে ফেলার স্বপ্নদেখা, কিংবা ভারতীয় কৃষকরা নাকি পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ হওয়ায় রাস্তায় বসে কাঁদছেন এসব দাবি নিয়ে চরম নাটকীয়তা দেখা গিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাস্তব আবারও নিজের জায়গায় ফিরে এসেছে। কারণ বাংলাদেশ ফের ভারতের কাছ থেকেই পেঁয়াজ আমদানি শুরু করেছে।

Advertisements

বাংলাদেশি বাজারে পেঁয়াজের দাম যখন ১৫০ টাকা ছুঁয়েছে, তখনই বোঝা গেল ওই আবেগী প্রচার, ভারতবিরোধী স্লোগান বা সোশ্যাল মিডিয়ার শোরগোল দিয়ে বাজার চলে না, চলে বাস্তবতার ওপর। তাই সেই বাস্তবতার চাপে পড়েই ফের ভারতের দুয়ারেই কড়া নাড়তে হয়েছে ঢাকা সরকারকে।

   

DRDO-তে ৭৬৪টি পদে নিয়োগ, আবেদন প্রক্রিয়া ৯ ডিসেম্বর থেকে শুরু

ভারতের পেঁয়াজ রফতানি নীতি নিয়ে যেসব অভিযোগ করা হয়েছিল, সেগুলোর বেশিরভাগই ছিল অজ্ঞতা বা ভুল ব্যাখ্যার ফল। বাস্তবে ভারত বছরে প্রায় ২৬–২৮ মিলিয়ন টন পেঁয়াজ উৎপাদন করে, যার মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ২০–২২ মিলিয়ন টন। বাকি ৪–৬ মিলিয়ন টন স্বাভাবিকভাবেই রফতানি হয় প্রতিবেশী দেশ ও এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলে। ফলে রফতানি সাময়িকভাবে বন্ধ করা ভারতের জন্য বড় ক্ষতি নয়—বরং দেশের বাজার স্থিতিশীল রাখা ও কৃষকদের সুরক্ষার জন্যই ভারত নিয়মিতই শুল্ক আরোপ বা রফতানি নিষেধাজ্ঞা দিয়ে থাকে।

কিন্তু এদিকে বাংলাদেশে যখন পেঁয়াজের বাজারে অগ্নিমূল্য পরিস্থিতি তৈরি হলো, তখন দেখা গেল যারা কিছুদিন আগেই ভারতবিরোধী তত্ত্ব শুনিয়ে গলা ফাটাচ্ছিলেন, তারাই আবার ভারতীয় পেঁয়াজের দিকে তাকিয়ে আছেন। বাংলাদেশি মিডিয়ার কিছু অংশে এমনভাবে দেখানো হয়েছিল যে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ হওয়ায় নাকি ভারতের কৃষকরা বেহাল—এমনকি কারও আত্মহত্যার কথাও প্রচার করা হয়েছে। বাস্তবে এগুলোর কোনও সত্যতা নেই।

তারপরও, বাংলাদেশের বাজার যখন জনগণের নাগালের বাইরে চলে গেল, তখন সরকারের কাছে কোনও পথ খোলা ছিল না। ফলে ফের ভারতের কাছ থেকেই তারা পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে আবারও প্রমাণ হলো—ভারত, বিশেষ করে মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক ও মধ্যপ্রদেশের কৃষকরা গোটা উপমহাদেশের জন্যই বড় ও নির্ভরযোগ্য পেঁয়াজ সরবরাহকারী।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, বাংলাদেশের মিডিয়া বা সামাজিক মাধ্যমে তৈরি করা বিভ্রান্তি দীর্ঘদিন ধরে দু’দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা ছড়াচ্ছে। বাস্তবে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্পর্ক বহু বছর ধরে স্থিতিশীল এবং বাণিজ্যে উভয় দেশেরই পারস্পরিক নির্ভরতা রয়েছে। এই নির্ভরতাকে অস্বীকার করা কিংবা আবেগপ্রসূত বক্তব্য দিয়ে অস্বীকার করার চেষ্টা করলে তা বাজার বা বাস্তবতাকে বদলাতে পারে না।

মজার বিষয় হলো যারা জোর গলায় বলছিলেন “ভারতের পেঁয়াজ খাব না”, তারাই এখন বাজারে ১৩০–১৫০ টাকা দিয়ে পেঁয়াজ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। আর কয়েকদিন পরই আবার একই গোষ্ঠী বলবে “ভারত কেন পেঁয়াজ দেয় না?” এই দ্বিমুখী অবস্থানই আজ সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার বিষয়। ভারতীয় ব্যবসায়ী এবং কৃষকরা অবশ্য এ নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামান না। তাদের মতে ভারতের পেঁয়াজ পচে গেলেও ভারতের যায় আসে না; কিন্তু বাংলাদেশ এশিয়ার অন্যতম বড় বাজার বলে তারা সবসময় পণ্য সরবরাহ করতে প্রস্তুত। তবে শর্ত একটাই বাজারের পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকা।

Advertisements