বাংলাদেশ-নেপালের সরকার বদলেছে! ভারতের Gen-Z নিয়ে মুখ খুললেন মোদী

bangladesh-nepal-government-change-modi-gen-z-statement

দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে একযোগে বড়সড় রদবদল নজর কেড়েছে (Bangladesh)। একদিকে বাংলাদেশ ও নেপালে সাম্প্রতিক সময়ে সরকার পরিবর্তন ও রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস, অন্যদিকে ভারতের অভ্যন্তরে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়ে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রতিবেশী দেশগুলির রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে ভারতের ভবিষ্যৎ শক্তি হিসেবে Gen-Z বা যুবসমাজকে কেন্দ্র করেই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী।

Advertisements

প্রতিবেশে সরকার বদল, নজরে তরুণ শক্তি

বাংলাদেশ ও নেপালে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন শুধু ওই দুই দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, এর প্রভাব পড়ছে গোটা দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক ও কৌশলগত সমীকরণে। নেপালে বারবার সরকার পরিবর্তন, জোট রাজনীতির টানাপোড়েন এবং তরুণ সমাজের অসন্তোষ রাজনীতিকে অস্থির করে তুলেছে।

   

রাষ্ট্রপতি ভবনের নতুন উদ্যোগ, প্রজাতন্ত্র দিবসে দেশজুড়ে ঐতিহাসিক প্রদর্শনীর আয়োজন

অন্যদিকে বাংলাদেশেও ক্ষমতার ভারসাম্য, রাজনৈতিক আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক প্রশ্ন ঘিরে পরিবর্তনের আবহ তৈরি হয়েছে। এই দুই দেশের ক্ষেত্রেই একটি বিষয় স্পষ্ট রাজনীতিতে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা ক্রমশ বাড়ছে। সামাজিক মাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও নতুন চিন্তাধারা রাজনীতিকে নতুন দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। প্রতিবেশী দেশগুলিতে যেখানে তরুণদের অসন্তোষ অনেক সময় অস্থিরতার রূপ নিচ্ছে, সেখানে ভারত সরকার যুবশক্তিকে রাষ্ট্রগঠনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।

ভারতের Gen-Z নিয়ে মোদীর স্পষ্ট বার্তা

সোমবার দিল্লিতে ‘বিকশিত ভারত ইয়ং লিডার্স ডায়ালগ’ (Viksit Bharat Young Leaders Dialogue – VBYLD)-এর সমাপ্তি অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, “ভারতের Gen-Z সৃজনশীলতায় ভরপুর। নতুন ভাবনা, উদ্ভাবনী শক্তি, অপরিসীম এনার্জি ও স্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে দেশের যুবসমাজ আজ জাতি গঠনের অগ্রভাগে রয়েছে।”

সারা ভারত ও বিদেশ থেকে আগত তরুণদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সময় মোদী বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই এই ডায়ালগ একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মঞ্চে পরিণত হয়েছে, যেখানে যুবসমাজ সক্রিয়ভাবে দেশের ভবিষ্যৎ দিশা নির্ধারণে অংশ নিচ্ছে।

যুবকেন্দ্রিক নীতি ও স্টার্ট-আপ বিপ্লব

প্রধানমন্ত্রী জানান, কেন্দ্র সরকার ধারাবাহিকভাবে এমন সব প্রকল্প ও সংস্কার চালু করেছে যার মূল লক্ষ্য যুবসমাজ। এর ফলেই ভারতে স্টার্ট-আপ বিপ্লব প্রকৃত গতি পেয়েছে। নতুন উদ্যোগ, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা, ডিজিটাল ইন্ডিয়া ও মেক ইন ইন্ডিয়া সব ক্ষেত্রেই তরুণরাই মূল চালিকাশক্তি।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, প্রতি বছর ১২ জানুয়ারি স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনে জাতীয় যুব দিবস পালিত হয়। স্বামী বিবেকানন্দের জীবন ও আদর্শ থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে ‘বিকশিত ভারত ইয়ং লিডার্স ডায়ালগ’ শুরু হয়েছে। মোদীর কথায়,“উদ্ভাবনী চিন্তা, শক্তি ও উদ্দেশ্য নিয়ে যুবশক্তিই আজ ভারত গঠনের সামনের সারিতে।”

অরেঞ্জ ইকোনমি ও সংস্কৃতির শক্তি

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ভারত বর্তমানে ‘অরেঞ্জ ইকোনমি’-তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করছে, যা সংস্কৃতি, কনটেন্ট ও সৃজনশীলতার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠছে। চলচ্চিত্র, ডিজিটাল কনটেন্ট, গেমিং, ডিজাইন ও সংস্কৃতি-নির্ভর শিল্পে তরুণদের অংশগ্রহণ বিশ্ব দরবারে ভারতের নতুন পরিচয় তৈরি করছে। গত এক দশকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক সংস্কারকে তিনি “রিফর্ম এক্সপ্রেস” বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এই সংস্কারের কেন্দ্রে রয়েছে ভারতের যুবশক্তি বা Yuva Shakti।

বিশাল অংশগ্রহণ, কঠোর নির্বাচন

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ৯ থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত চলা এই ডায়ালগে দেশজুড়ে বিভিন্ন স্তরে ৫০ লক্ষেরও বেশি যুবক-যুবতী অংশ নিয়েছেন। জাতীয় স্তরে পৌঁছনো তরুণ নেতাদের বাছাই করা হয়েছে কঠোর ও মেধাভিত্তিক তিন ধাপের প্রক্রিয়ায় সর্বভারতীয় ডিজিটাল কুইজ, প্রবন্ধ রচনা প্রতিযোগিতা,রাজ্য স্তরে ভিশন প্রেজেন্টেশন।

যখন বাংলাদেশ ও নেপালের মতো প্রতিবেশী দেশে সরকার পরিবর্তন ও রাজনৈতিক অস্থিরতা দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী যুবসমাজকে ইতিবাচক শক্তিতে রূপান্তরিত করার বার্তা দিচ্ছেন। Gen-Z-কে সমস্যা নয়, সম্ভাবনা হিসেবে দেখার এই দৃষ্টিভঙ্গিই ভারতকে আগামী দিনে ‘বিকশিত ভারত’-এর পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে, এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন
Advertisements