
ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে ফের উদ্বেগ বাড়াল একটি উসকানিমূলক মন্তব্য (Bangladesh Threat to Shelter Militants)। বাংলাদেশের ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-র এক নেতার প্রকাশ্য হুমকি ঘিরে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।
অভিযোগ, এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ প্রকাশ্যে দাবি করেছেন যে বাংলাদেশের মাটিতে জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়া হবে এবং তাদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল—‘সেভেন সিস্টার্স’—কে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা চালানো হবে। এই মন্তব্য সামনে আসতেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
‘চাকরি চুরি থেকে ক্রিকেট-ফুটবল, অলরাউন্ডার বিষ্ণুমাতা!’ তরুণজ্যোতি
কূটনৈতিক মহলের মতে এই ধরনের বক্তব্য শুধু দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে না, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্যও তা অত্যন্ত বিপজ্জনক। উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলি দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিন্নতাবাদ ও জঙ্গি কার্যকলাপের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী দেশের এক রাজনৈতিক নেতার এমন মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই দিল্লির নিরাপত্তা মহলে কড়া প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।
সূত্রের খবর, হাসনাত আবদুল্লাহর এই বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ার পরই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে ভারতের রাজনৈতিক মহল। বিরোধী দলগুলির পাশাপাশি শাসক শিবিরের একাংশও এটিকে “খোলা উসকানি” বলে আখ্যা দিয়েছে। তাঁদের মতে, কোনও রাজনৈতিক নেতা যদি প্রকাশ্যে জঙ্গি সংগঠনকে আশ্রয় ও সহায়তার কথা বলেন, তা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবিরোধী নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
ভারতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এটি আদতে রাজনৈতিক প্ররোচনা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের কৌশলও হতে পারে। তবে এমন মন্তব্যকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই বলেই মত তাঁদের। কারণ অতীতে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সীমান্তপারের যোগাযোগের অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিজ্ঞতার নিরিখেই এ ধরনের হুমকিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলেও এই মন্তব্য নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বাংলাদেশের সরকারিভাবে ঘোষিত অবস্থানের সঙ্গে এই ধরনের বক্তব্যের কোনও মিল নেই। বাংলাদেশ সরকার বরাবরই সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অবস্থান নিয়েছে এবং সীমান্তে জঙ্গি কার্যকলাপ রুখতে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতার কথা বলে এসেছে। ফলে একজন রাজনৈতিক নেতার এমন মন্তব্য সরকারি নীতির প্রতিফলন নয় বলেই দাবি করছে ঢাকা-কেন্দ্রিক কূটনৈতিক সূত্র।
তবে এই ঘটনা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক সংবেদনশীল সময়ে সামনে এসেছে। বাণিজ্য, সীমান্ত নিরাপত্তা, অভিবাসন এবং আঞ্চলিক সংযোগ এই সব বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছিল। সেই আবহে এমন হুমকিমূলক মন্তব্য দ্বিপাক্ষিক আস্থার উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভারতের কূটনৈতিক মহল সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে কূটনৈতিক মাধ্যমে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হতে পারে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলিও উত্তর-পূর্ব সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
সব মিলিয়ে, হাসনাত আবদুল্লাহর এই মন্তব্য শুধু রাজনৈতিক উত্তেজনাই নয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখতে যেখানে দায়িত্বশীল বক্তব্য জরুরি, সেখানে এমন প্রকাশ্য হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। এখন দেখার, এই মন্তব্য নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সরকার কী অবস্থান নেয় এবং ভারত কূটনৈতিকভাবে কী পদক্ষেপ করে।










