
ঢাকা: বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিক ও কূটনৈতিক প্রতিষ্ঠানের (terrorist attacks against Indians)উপর বড়সড় জঙ্গি হামলার ছক কষছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি উঠে এসেছে একাধিক গোয়েন্দা সূত্রে। সূত্র অনুযায়ী, আগামী ২৬ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশে ভারতীয় স্বার্থকে লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।
গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই ষড়যন্ত্রে সক্রিয়ভাবে জড়িত রয়েছে একাধিক কট্টরপন্থী ইসলামি সংগঠন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য জামাত-ই-ইসলামি (মুসলিম ব্রাদারহুডের আদর্শে অনুপ্রাণিত একটি অংশ), নিষিদ্ধ সংগঠন হিজব উত তাহরির, আনসার আল ইসলাম (আল-কায়েদার স্থানীয় শাখা) এবং তথাকথিত ‘স্ট্র্যান্ডেড পাকিস্তানি’ বা মোহাজির সম্প্রদায়ের একটি অংশ।
কবে থেকে শুরু হতে পারে আইএসএল?
সূত্রের দাবি, গত ১৭ ডিসেম্বর ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাই কমিশনের দিকে হাজার হাজার উগ্রপন্থী জঙ্গি এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরিকল্পনা ছিল কমিশন চত্বরে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এবং ভারতীয় কূটনীতিকদের শারীরিকভাবে আক্রমণ করা। যদিও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে, তবে ঘটনাটি ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
গোয়েন্দা সূত্র আরও জানাচ্ছে, এই নেটওয়ার্কের মূল নির্দেশনা আসছে পাকিস্তানের আইএসআই থেকে। বিশেষ করে ‘মোহাজির রেজিমেন্ট’ নামে একটি নতুন জঙ্গি ইউনিট গঠনের তথ্য মিলেছে, যেখানে বাংলাদেশে থাকা স্ট্র্যান্ডেড পাকিস্তানি যুবকদের নিয়োগ করা হয়েছে। এই ইউনিটকে আত্মঘাতী হামলার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হল এই হামলার নীলনকশা বাস্তবায়নের নেতৃত্ব দিতে পারে এক কুখ্যাত জিহাদি প্রকাশনার সম্পাদক, যিনি আগে থেকেই দক্ষিণ এশিয়ায় উগ্রপন্থী প্রচারের সঙ্গে যুক্ত। তার মাধ্যমে অনলাইন ও অফলাইন—দুই মাধ্যমেই উসকানি ছড়ানো হচ্ছে বলে গোয়েন্দা রিপোর্টে উল্লেখ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশকে মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালানো আইএসআই-এর পুরনো কৌশল। তবে বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ধরনের হামলা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে অস্থিতিশীল করার পাশাপাশি গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশন ও অন্যান্য ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি।
যদিও বাংলাদেশ সরকারিভাবে এখনও এই বিষয়ে বিস্তারিত বিবৃতি দেয়নি, তবে সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানে ঢাকা বরাবরই কঠোর। বিশ্লেষকদের মতে, সময়মতো গোয়েন্দা তথ্যের আদান-প্রদান এবং যৌথ নিরাপত্তা উদ্যোগই এই ধরনের নাশকতা প্রতিরোধের একমাত্র উপায়।










