
আগরতলা: ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি হয়েছে। “অনিবার্য পরিস্থিতি”-র উল্লেখ করে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশ অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশন অনির্দিষ্টকালের জন্য সমস্ত ভিসা ও (Bangladesh visa services) কনসুলার পরিষেবা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি ও হেড অফ কমিশন এস এম আলমাস হোসেন জানান, “অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আগরতলায় বাংলাদেশ অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশনের সমস্ত ভিসা ও কনসুলার পরিষেবা বন্ধ থাকবে।” এই ঘোষণার ফলে চিকিৎসা, শিক্ষা, বাণিজ্য ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বাংলাদেশ যেতে ইচ্ছুক বহু মানুষ সমস্যায় পড়েছেন।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে আগরতলায় বাংলাদেশ মিশনের নিরাপত্তা ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (CRPF) এবং ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলসের বিপুল সংখ্যক জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। কূটনৈতিক ভবনের চারপাশে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তপ্ত পরিস্থিতি। বিশেষ করে ময়মনসিংহে এক হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা এবং পরে দেহ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ভারতের বিভিন্ন অংশে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, ব্লাসফেমির সন্দেহে ২৫ বছর বয়সি ওই গার্মেন্টস কর্মীকে জনতা আক্রমণ করে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে আগরতলা সহ বিভিন্ন জায়গায় বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু সুরক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের কয়েকজন নেতার উত্তর-পূর্ব ভারতকে বিচ্ছিন্ন করার মন্তব্য নিয়েও প্রবল আপত্তি জানানো হয়।
আগরতলার পাশাপাশি নয়াদিল্লিতেও এর সরাসরি প্রভাব পড়ে। সোমবার বাংলাদেশ হাই কমিশন, নয়াদিল্লি থেকে জানানো হয় যে, অনির্দিষ্টকালের জন্য সমস্ত কনসুলার ও ভিসা পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হচ্ছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, “অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে এই পরিষেবাগুলি বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে কোনও অসুবিধা হলে আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।”
মঙ্গলবার দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনের বাইরে শত শত মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে ব্যারিকেড ভাঙার ঘটনাও ঘটে। বিক্ষোভকারীরা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনাপ্রবাহ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের উপর সাময়িক চাপ তৈরি করলেও কূটনৈতিক স্তরে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তবে সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা—এই দুই বিষয় এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।










