নয়াদিল্লি: ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI) আয়োজিত বৈশ্বিক সম্মেলনে ব্রাত্য রাখা হলো প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশকে। বুধবার থেকে নয়াদিল্লির ‘ভারত মণ্ডপম’-এ শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বের প্রায় ৭০টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করছেন। তবে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোর টালমাটাল অবস্থার প্রেক্ষিতে দেশটিকে এই আসরে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
সম্মেলনের গুরুত্ব ও অংশগ্রহণকারী
‘ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট’ (IICDEM) ২০২৬ শীর্ষক এই মেগা ইভেন্টটি ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং আইআইআইডিইএম (IIIDEM) যৌথভাবে আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে প্রায় ৪০টি দেশের নির্বাচন পরিচালনা সংস্থা (EMB) এবং ৩০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রদূত ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকছেন। প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কা ও নেপাল এই সম্মেলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিলেও তালিকায় জায়গা হয়নি ঢাকার।
কেন ব্রাত্য বাংলাদেশ? Bangladesh excluded from India election conference
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও দেশটিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এবং নির্বাচন কমিশন মনে করছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে নির্বাচন পরিচালনার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে, সম্প্রতি হিন্দুসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ও সহিংসতার পরিসংখ্যান
সম্মেলন থেকে বাংলাদেশকে দূরে রাখার পেছনে সংখ্যালঘু নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের দেওয়া তথ্যমতে, শুধুমাত্র ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসেই বাংলাদেশে ৫১টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ১০টি খুনের ঘটনা রয়েছে। সংস্থাটির দাবি অনুযায়ী, ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৭ জন হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে হত্যা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পুলিশের নথির ভিত্তিতে ভিন্ন এক তথ্য উপস্থাপন করেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পুলিশের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে:
সংখ্যালঘু সংক্রান্ত মোট ঘটনার সংখ্যা: ৬৪৫টি।
সাম্প্রদায়িক উস্কানি বা কারণে ঘটা ঘটনা: ৭১টি (এর মধ্যে ৩৮টি মন্দির ভাঙচুর ও ৮টি অগ্নিসংযোগের ঘটনা)।
অসাম্প্রদায়িক বা অপরাধমূলক কারণে ঘটা ঘটনা: ৫৭৪টি (যা জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ বা ব্যক্তিগত শত্রুতা)।
নিরাপত্তা শঙ্কা ও ভারতীয় মিশন
বাংলাদেশে ভারতীয় মিশনগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ডিসেম্বর মাসে ইসলামপন্থী নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর ভারতীয় মিশনগুলোতে নিরাপত্তা হুমকি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারত ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে কর্মরত তাদের মিশন ও পোস্ট কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোকে দেশে ফিরিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছে।
নয়াদিল্লির এই সম্মেলনকে বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা ও নির্বাচন পরিচালনার সেরা পদ্ধতিগুলো নিয়ে আলোচনার একটি বড় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা হচ্ছে। ৪৩টি অধিবেশনে বিভক্ত এই সম্মেলনে আইআইটি, আইআইএম এবং বিভিন্ন ন্যাশনাল ল ইউনিভার্সিটি থেকে প্রায় ১০০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছেন। এমতাবস্থায় বাংলাদেশের অনুপস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক বিশেষ বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
Bharat: Bangladesh was excluded from the Election Commission of India’s global democracy conference in New Delhi, amid concerns over political instability, election credibility, minority safety, and law-and-order conditions ahead of Dhaka’s upcoming national polls.
