
বাংলাদেশ আবারও ভারতের পেঁয়াজ আমদানিতে কার্যত ব্রেক কষেছে (Bangladesh)। ‘দেশীয় কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা’-র যুক্তি দেখিয়ে ঢাকা সরকার ভারত থেকে নতুন করে পেঁয়াজ আমদানির পারমিট দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। বিষয়টি শুধু বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৃষিপণ্য নির্ভর সম্পর্ক ও পারস্পরিক বিশ্বাসের প্রশ্নও নতুন করে তুলে ধরেছে।
বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রকের সূত্র অনুযায়ী, আপাতত ভারত থেকে নতুন কোনও পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দেওয়া হবে না। সরকারি ব্যাখ্যা দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে কৃষকদের উৎপাদিত পেঁয়াজের দাম ধরে রাখতে এবং স্থানীয় চাষিদের সুরক্ষা দিতেই এই সিদ্ধান্ত। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, এই যুক্তির আড়ালে রয়েছে এক গভীর দ্বিচারিতা।
রামলীলা মেলায় প্রেম, ধর্ম বদলে বিয়ের পিড়িতে আয়েষা
কারণ, যখনই বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের ঘাটতি তৈরি হয়েছে বা দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, তখনই ভারত ছিল তাদের প্রধান ভরসা। শুধু তাই নয়, ২০২৩–২৪ অর্থবর্ষে ভারতের মোট পেঁয়াজ রফতানির প্রায় ৪২ শতাংশই গিয়েছিল বাংলাদেশে। একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এর আগে ভারত প্রায় ১০ লক্ষ টন পেঁয়াজ বাংলাদেশে পাঠিয়েছে, যা সে দেশের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বড় ভূমিকা নিয়েছিল।
কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। চলতি অর্থবর্ষ (FY26)-এ এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশ মাত্র ১২,৯০০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে যা আগের তুলনায় নগণ্য। অর্থাৎ, যখন প্রয়োজন, তখন ভারতের সরবরাহ গ্রহণ করা হয়েছে, আর যখন স্থানীয় রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক সুবিধা তৈরি হয়েছে, তখন সেই দরজাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ভারতের কৃষক ও রফতানিকারকদের উপর। বিশেষ করে মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, কর্নাটক ও রাজস্থানের মতো পেঁয়াজ উৎপাদক রাজ্যগুলিতে, যেখানে বাংলাদেশ ছিল অন্যতম বড় রফতানি বাজার। রফতানি বন্ধ বা সীমিত হলে অভ্যন্তরীণ বাজারে জোগান বেড়ে দাম পড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে, যা কৃষকদের ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, বিষয়টি শুধুমাত্র কৃষি বা বাণিজ্যের নয়, বরং কূটনৈতিক বার্তাও বহন করছে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘ফেয়ার ট্রেড’ বা ন্যায্য বাণিজ্যের প্রশ্নে নতুন করে ভাবনার সময় এসেছে। একতরফা সুবিধা নেওয়ার এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্যও স্বাস্থ্যকর নয়।
ভারতের নীতিনির্ধারকদের একাংশের মতে, এখন সময় এসেছে কড়া ও স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার। যেমন ভারতও প্রয়োজনে রফতানি নীতিতে পুনর্বিবেচনা করতে পারে, বিকল্প বাজারে জোর দিতে পারে অথবা পারস্পরিক বাণিজ্যে সমতা নিশ্চিত করার জন্য কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্ত আবারও প্রমাণ করল বাণিজ্যে বন্ধুত্ব তখনই কার্যকর, যখন তা দুই দিক থেকেই সমানভাবে সম্মানিত হয়। প্রশ্ন উঠছে, ভারত কি এবার কেবল নীরব দর্শক হয়ে থাকবে, নাকি নিজের কৃষক ও স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় জবাব দেবে?










