
নয়াদিল্লি, ১৩ ডিসেম্বর: ভারতের পারমাণবিক শক্তি খাতে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা হল (Atomic Energy Bill 2025 India)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা গতকাল, ১২ ডিসেম্বর, অ্যাটমিক এনার্জি বিল ২০২৫ বা শান্তি বিল অনুমোদন করেছে। এই বিলের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ভারতের সিভিল পারমাণবিক শক্তি খাতে বেসরকারি কোম্পানিগুলির অংশগ্রহণের পথ প্রশস্ত হবে।
ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে সরকারি একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে থাকা এই খাতে এটি একটি যুগান্তকারী সংস্কার। বিলটি আগামী সপ্তাহে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে পেশ করা হবে বলে জানা গেছে।এই সিদ্ধান্তের পিছনে মূল লক্ষ্য হল ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতের পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন ক্ষমতা ১০০ গিগাওয়াটে পৌঁছে দেওয়া। বর্তমানে ভারতের পারমাণবিক ক্ষমতা মাত্র ৮.৮ গিগাওয়াটের কাছাকাছি, যা মূলত নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড (NPCIL)-এর মতো সরকারি সংস্থাগুলির হাতে।
অনুশীলন বাতিল মোহনবাগানের, কিন্তু কেন?
এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিপুল বিনিয়োগ, উন্নত প্রযুক্তি এবং দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন দরকার—যা একা সরকারি সংস্থাগুলির পক্ষে সম্ভব নয়। শান্তি বিলের মাধ্যমে বেসরকারি খাতকে আমন্ত্রণ জানিয়ে সরকার এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে চাইছে।প্রধানমন্ত্রী মোদী নভেম্বর মাসে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, “আমরা পারমাণবিক খাতকেও খুলে দিচ্ছি।
স্পেস সেক্টরের মতো এখানেও বেসরকারি খাতের শক্তিশালী ভূমিকার ভিত্তি তৈরি করছি।” তাঁর এই ঘোষণার পরই বিলটির প্রস্তুতি ত্বরান্বিত হয়। ২০২৫-এর বাজেটে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার এনার্জি মিশন ঘোষণা করেছিলেন, যার লক্ষ্য ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক ক্ষমতা। এর জন্য ছোট মডিউলার রিঅ্যাক্টর (SMR) গবেষণা ও উন্নয়নে ২০,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
২০৩৩ সালের মধ্যে পাঁচটি দেশীয় SMR চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।শান্তি বিলটি অ্যাটমিক এনার্জি অ্যাক্ট ১৯৬২ এবং সিভিল লায়াবিলিটি ফর নিউক্লিয়ার ড্যামেজ অ্যাক্ট ২০১০-এর সংশোধনের ভিত্তিতে তৈরি। এতে বেসরকারি কোম্পানিগুলি পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন, অ্যাটমিক মিনারেল অনুসন্ধান, ফুয়েল ফ্যাব্রিকেশনের মতো ক্ষেত্রে অংশ নিতে পারবে।
তবে সংবেদনশীল কার্যকলাপে সরকারের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ থাকবে। বিলে একটি স্বাধীন নিউক্লিয়ার সেফটি অথরিটি এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব রয়েছে, যা দুর্ঘটনার দায়বদ্ধতা এবং বিরোধ নিষ্পত্তি সহজ করবে। এতে বিদেশি প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য লায়াবিলিটি ক্লজ সংশোধন করা হয়েছে।










