বছর শেষে GSDP বৃদ্ধিতে রেকর্ড অসমের! তালিকায় নেই বাংলা

নয়াদিল্লি: বছরের শেষে দেশের অর্থনৈতিক মানচিত্রে বড়সড় চমক অসম (Assam GSDP growth)। গত পাঁচ বছরে রাজ্যের গ্রস স্টেট ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট (GSDP) বৃদ্ধিতে সর্বভারতীয় রেকর্ড গড়েছে…

assam-gsdp-growth-fastest-india-rbi

নয়াদিল্লি: বছরের শেষে দেশের অর্থনৈতিক মানচিত্রে বড়সড় চমক অসম (Assam GSDP growth)। গত পাঁচ বছরে রাজ্যের গ্রস স্টেট ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট (GSDP) বৃদ্ধিতে সর্বভারতীয় রেকর্ড গড়েছে অসম। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)-র স্বীকৃত তথ্য অনুযায়ী, এই সময়কালে অসমের জিএসডিপি বেড়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ, যা দেশের সব রাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ। অথচ এই তালিকায় জায়গা হয়নি পশ্চিমবঙ্গের যা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আলোচনা।

Advertisements

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, গত পাঁচ বছরে অসমের এই উত্থান শুধুই পরিসংখ্যানের খেলা নয়, বরং পরিকল্পিত পরিকাঠামো উন্নয়ন, শিল্প বিনিয়োগ এবং প্রশাসনিক সংস্কারের ফল। দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে থাকা উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্য হিসেবে পরিচিত অসম এখন দেশের দ্রুততম অর্থনৈতিক বৃদ্ধির উদাহরণ হয়ে উঠছে।

   

বিশ্ববাজারে চালের লড়াইয়ে বড় ধাক্কা খেল পাকিস্তান

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অসমের পরে রয়েছে তামিলনাড়ু, কর্নাটক, উত্তরপ্রদেশ ও রাজস্থান। তামিলনাড়ুর জিএসডিপি বৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ, কর্নাটকের ৩৬ শতাংশ, উত্তরপ্রদেশের ৩৫ শতাংশ এবং রাজস্থানের প্রায় ৩৪ শতাংশ। এই রাজ্যগুলির তুলনায় জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক দিক থেকে ছোট হলেও অসম যে গতিতে এগিয়েছে, তা অর্থনীতিবিদদেরও চমকে দিয়েছে।

অসমের এই অগ্রগতির পেছনে একাধিক কারণ তুলে ধরছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে সড়ক, সেতু ও রেল যোগাযোগের উন্নয়ন, তেল-গ্যাস ও চা শিল্পে নতুন বিনিয়োগ, স্টার্টআপ ও ক্ষুদ্র শিল্পে সরকারি সহায়তা সব মিলিয়ে রাজ্যের অর্থনীতিতে গতি এসেছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে।

এই তালিকায় আরও রয়েছে বিহার (প্রায় ৩৩ শতাংশ), অন্ধ্রপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ়, ঝাড়খণ্ড, তেলেঙ্গানা প্রভৃতি রাজ্য। তবে পশ্চিমবঙ্গের নাম এই শীর্ষ তালিকায় অনুপস্থিত থাকায় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে কেন দেশের অন্যতম শিল্প ও বাণিজ্যসমৃদ্ধ রাজ্য এই দৌড়ে পিছিয়ে পড়ল?

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পশ্চিমবঙ্গে শিল্প বিনিয়োগে স্থবিরতা, জমি সমস্যা, কর্মসংস্থানের ঘাটতি এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নের গতি কম থাকাই এর অন্যতম কারণ। যদিও রাজ্য সরকারের দাবি, সামাজিক প্রকল্প ও কল্যাণমূলক খাতে ব্যয় বৃদ্ধির ফলে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে, কিন্তু জিএসডিপি বৃদ্ধির নিরিখে তার প্রতিফলন এখনও যথেষ্ট নয়।

অন্যদিকে অসম সরকারের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, রাজ্যটি এখন শুধু উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার নয়, বরং শিল্প ও বিনিয়োগের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠছে। কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক প্রকল্প, ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি এবং উত্তর-পূর্বে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন অসমকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী দিনে এই জিএসডিপি বৃদ্ধির তথ্য ভোটের রাজনীতিতেও বড় অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে। একদিকে অসমের শাসকদল এই পরিসংখ্যানকে উন্নয়নের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরবে, অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে বিরোধীরা এই তালিকাকে সামনে রেখে রাজ্য সরকারের অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা আরও জোরদার করবে।

সব মিলিয়ে, বছরের শেষে আরবিআই স্বীকৃত জিএসডিপি বৃদ্ধির তালিকা স্পষ্ট করে দিচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক চালচিত্র দ্রুত বদলাচ্ছে। আর সেই পরিবর্তনের সবচেয়ে উজ্জ্বল উদাহরণ এখন অসম। প্রশ্ন একটাই আগামী দিনে কি অন্য রাজ্যগুলি, বিশেষ করে বাংলা, এই দৌড়ে নিজেদের জায়গা ফিরে পাবে?

Advertisements