অসমের নওগাঁও জেলার বটদ্রাভা স্থানের পুনর্বিকাশ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। সোমবার এই অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত থেকে প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে তিনি বিশেষভাবে ভারতের প্রাক্তন বিশিষ্ট নেতা এবং সমাজ সংস্কারক ভারতরত্ন গোপীনাথ বরদলৈকে স্মরণ করেন।
অমিত শাহের বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয় যে, “গোপীনাথ বরদলৈ না থাকলে শুধু অসম নয়, গোটা পূর্বাঞ্চলও ভারতের অংশ হত না।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ইতিহাস এবং জাতীয় সংহতির গুরুত্বকে তুলে ধরেন। তিনি আরও বলেন, বরদলৈর নেতৃত্ব ও অবদানের কারণে অসম এবং পূর্বাঞ্চলের মানুষ ভারতীয় সংবিধানের আওতায় এসে সংহত জীবনযাপন করতে পেরেছেন।
বটদ্রাভা পুনর্বিকাশ প্রকল্পটি স্থানীয় জনজীবন উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় এলাকার বুনিয়াদি অবকাঠামো, সড়কপথ, পানি সরবরাহ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোকে আধুনিক ও সুষ্ঠুভাবে উন্নত করা হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় নাগরিকরা আশা প্রকাশ করেন যে, এই প্রকল্প এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অমিত শাহের বক্তব্যে রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পাওয়া যায়। তিনি বলেছেন, অসম শুধু একটি রাজ্য নয়, এটি ভারতের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। পূর্বাঞ্চলের সংহতি এবং ভারতের ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, যারা দেশের ঐক্য ও সংহতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অমিত শাহ বলেন, “আমরা কেবল ভবিষ্যতের প্রজন্মের জন্য উন্নয়ন চাই না, বরং আমাদের ইতিহাস এবং জাতীয় ঐক্যও রক্ষা করতে হবে। গোপীনাথ বরদলৈ এর মতো নেতা আমাদের পথ দেখিয়েছেন। তাঁর আদর্শ আমাদের পথপ্রদর্শক।” এই বক্তব্যে উপস্থিত শ্রোতারা দম বন্ধ করে শ্রবণ করেন এবং অনেকেই হাততালি দিয়ে সম্মতি জানান।
স্থানীয় প্রশাসনও প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সরকারি কর্মকর্তারা জানান, বটদ্রাভা পুনর্বিকাশ প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু হবে এবং স্থানীয় জনগণকে এতে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে। প্রজেক্টের আওতায় নতুন স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং বাজার উন্নয়নের পাশাপাশি পর্যটন ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নেও গুরুত্ব দেয়া হবে।
অমিত শাহের উপস্থিতি এবং বক্তব্য স্থানীয় মানুষদের মধ্যে উৎসাহ ও উত্তেজনা তৈরি করেছে। অনেকে মন্তব্য করেছেন যে, এই প্রকল্প কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়নই নয়, বরং সামাজিক সংহতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
