ভারতের ক্ষতি করতে ফাঁস হল মুনিরের নয়া চাল

asim-munir-nuclear-bunker-plan-pakistan

ইসলামাবাদ: ভারতের ক্ষতিই তাদের প্রধান লক্ষ তা আরও একবার প্রমান করল পাকিস্তান (Asim Munir Nuclear Bunker Plan)। ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির, যিনি সম্প্রতি দেশের প্রথম চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্সেস (সিডিএফ) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, তাঁর প্রথম বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে এসেছে একটা বিতর্কিত প্রকল্প। পাঞ্জাব এবং সিন্ধু প্রদেশে শীর্ষস্থানীয় সেনা জেনারেল এবং তাদের পরিবারদের জন্য ছয়টি নিউক্লিয়ার বাঙ্কার নির্মাণের পরিকল্পনা করেছেন মুনির।

প্রত্যেকটি বাঙ্কারের ধারণক্ষমতা ১৫০ জনের। এই প্রকল্পের আনুমানিক খরচ ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে একটা বড় প্রশ্নবিদ্ধকর পদক্ষেপ। এই খবরটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে উঠতেই রাজনৈতিক মহলে ঝড় উঠেছে প্রত্যেকেই এই পরিকল্পনাকে যুদ্ধের ছক বলে উল্লেখ করেছেন।

   

‘বিজেপি আমায় ছাড়া ক্ষমতায় আসতে পারবে না’, হুঙ্কার হুমায়ুনের

আসিম মুনিরের এই নতুন ভূমিকা কোনো ছোটখাটো ব্যাপার নয়। নভেম্বর ২০২৫-এ পাকিস্তানের সংবিধানের ২৭তম সংশোধনীর মাধ্যমে চেয়ারম্যান জয়েন্টস চিফস অফ স্টাফ কমিটির পদটি বিলুপ্ত করে সিডিএফ পদ সৃষ্টি করা হয়। এতে মুনির সেনাবাহিনীর চিফ অফ আর্মি স্টাফ (সিওএএস) পদের পাশাপাশি নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিউক্লিয়ার অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ সবকিছুর একক নিয়ন্ত্রণ পান।

প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি ৪ ডিসেম্বর তাঁকে পাঁচ বছরের জন্য এই দায়িত্বে নিযুক্ত করেন, যা ২০৩০ পর্যন্ত তাঁর আধিপত্য নিশ্চিত করে। এছাড়া তাঁকে ফিল্ড মার্শালের পাঁচ তারকার পদবি দেওয়া হয়েছে, যা পাকিস্তানের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের ঘটনা প্রথম ছিলেন আয়ুব খান। এখন মুনিরের হাতে ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের চাবিকাঠি, যা পাকিস্তানের ১৭০-এর বেশি নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড নিয়ন্ত্রণ করে।

এই বাঙ্কার প্রকল্পটি সিডিএফ পদ গ্রহণের পরপরই ঘোষিত হয়েছে, যা বিশ্লেষকরা বলছেন ‘প্রথম বড় সিদ্ধান্ত’। পাঞ্জাবের লাহোর এবং রওয়ালপিন্ডির কাছাকাছি এবং সিন্ধুর করাচি ও হায়দ্রাবাদ অঞ্চলে এই বাঙ্কারগুলো নির্মাণ হবে। প্রত্যেকটি বাঙ্কারে আধুনিক ভেন্টিলেশন সিস্টেম, খাদ্য ও জলের স্টক, মেডিকেল ফ্যাসিলিটি এবং কমান্ড সেন্টার থাকবে, যাতে নিউক্লিয়ার হামলায় জেনারেলরা এবং তাদের পরিবাররা কয়েক মাস টিকে থাকতে পারেন।

খরচের এত বড় অংক প্রায় ১০ হাজার কোটি রুপি পাকিস্তানের বাজেটের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। দেশে মুদ্রাস্ফীতি ২৫ শতাংশের উপরে, বৈদ্যুতিক সংকট এবং বেকারত্বের মতো সমস্যা থাকতে থাকতে এই ‘জেনারেলদের দুর্গ’ কীভাবে সম্ভব? সেনা সূত্ররা বলছেন, এটা ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য’, কিন্তু বিরোধীরা অভিযোগ করছেন যে এটা সামরিক অভিজাতের স্বার্থ রক্ষার চক্রান্ত।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন