
বিশ্বের বিভিন্ন উন্নয়ন এবং দেশীয় পরিবর্তনের উপর যা ভারতের শেয়ার বাজার এবং অর্থনীতির উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। ভারতের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw) ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ঘোষণা করেছেন যে ভারত এবং G7 দেশগুলির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ বিষয়ক একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত। তিনি জানিয়েছেন, “বিভিন্ন দেশের মধ্যে গবেষণা শেয়ারিং সম্পর্কিত আলোচনা এবং চুক্তি হয়েছে,” যা আন্তর্জাতিক খনিজ এবং প্রযুক্তি গবেষণায় ভারতকে এক গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে দাঁড় করাবে।
এটি এমন একটি মুহূর্ত, যখন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে ‘প্যাক্স সিলিকা’ খনিজ ক্লাবে আমন্ত্রণ জানাতে প্রস্তুত, যা ভারতের জন্য নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে। ‘প্যাক্স সিলিকা’ মূলত সিলিকন এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত খনিজগুলির নির্ভরযোগ্য উৎস হিসাবে পরিচিত এবং এর মাধ্যমে ভারত বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি এবং খনিজ সরবরাহকারী(Ashwini Vaishnaw) দেশে পরিণত হতে পারে।
এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বাণিজ্য যুদ্ধের পরিসর আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যরত সব দেশগুলোর ওপর ২৫% ট্যারিফ আরোপ করার ঘোষণা দিয়েছেন, যার ফলে ভারতের $1.8 বিলিয়ন বাণিজ্য, বিশেষ করে বাসমতি চাল ও ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যগুলির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। ট্রাম্পের এই নতুন সিদ্ধান্ত ভারতীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাসমতি চাল এবং ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য বিশ্বের বাজারে ভারতের প্রধান রপ্তানি খাত, এবং এই বাণিজ্যযুদ্ধের ফলে তার উপর প্রভাব পড়তে পারে।
বিশ্ব বাণিজ্য ক্ষেত্রে এই নতুন ট্যারিফের ঘোষণা, ভারতের ব্যবসায়িক পরিবেশে একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই পদক্ষেপ ভারতের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিতে পারে, কারণ এতে ভারতীয় পণ্যের দাম বাড়বে এবং এর ফলে ভারতের রপ্তানি হ্রাস পেতে পারে। তবে, ভারতের সরকার ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের অবস্থান শক্তিশালী করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছে।
এছাড়া, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন সংকেত পাওয়া যাচ্ছে। একদিকে ভারতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বলছেন যে বাণিজ্য আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছে, অন্যদিকে, কিছু সমস্যা এবং প্রতিবন্ধকতাও দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট বাণিজ্য নীতির কারণে কিছু খাতে উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে। এর মধ্যে আইটি সেক্টর এবং পিএসই (পাবলিক সেক্টর ইউনিট) ব্যাংকগুলি বিশেষভাবে নজরে রয়েছে, যেখানে ভারতে সম্ভাব্য নতুন সরকারি নীতি এবং আন্তর্জাতিক চাপের কারণে কিছু বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
ভারতীয় শেয়ার বাজারের জন্য ইতিবাচক খবর হচ্ছে, দেশের শীর্ষস্থানীয় আইটি কোম্পানি টি সিএস (TCS) এবং এইচ সি এল টেক (HCL Tech) তাদের ত্রৈমাসিক আয় ঘোষণা করেছে। দুটি কোম্পানিই শক্তিশালী ফলাফল জানিয়েছে, যা বাজারে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। বিশেষত, টি সিএস-এর ব্যাপক আয় এবং গ্রাহক বৃদ্ধির প্রবণতা ভারতের প্রযুক্তি খাতে শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করছে।
এটি আইটি সেক্টরের জন্য একটি শক্তিশালী সংকেত, কারণ এই সেক্টরটি ভারতের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত হিসেবে বিবেচিত। যদিও বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজারে কিছুটা অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে, তবুও ভারতীয় আইটি কোম্পানিগুলির ধারাবাহিক বৃদ্ধির কারণে তারা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত।
এখনকার বাজার বিশ্লেষণে ভারতীয় শেয়ার বাজারের অগ্রগতির জন্য আইটি সেক্টর এবং পাবলিক সেক্টর ব্যাংকগুলির উপর বেশি নজর রাখা হচ্ছে। বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতীয় আইটি কোম্পানিগুলি ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে পারে, কারণ তারা বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি চাহিদা মেটানোর জন্য প্রস্তুত। অন্যদিকে, পিএসই ব্যাংকগুলি এখনও কিছু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন, তবে সরকারী নীতির পরিবর্তন এবং রেগুলেটরি সহায়তা তাদের জন্য একটি নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।










