
ভোপাল: গেরুয়া রাজ্য মধ্যপ্রদেশে ধর্মীয় স্লোগান ঘিরে ফের উত্তেজনার ছবি সামনে এল (Taxi Driver Assaulted in Ashoknagar)। অভিযোগ, ‘জয় শ্রী রাম’ বলাকে কেন্দ্র করে অশোকনগরে এক ট্যাক্সি চালককে প্রায় আধঘণ্টা ধরে মারধর করা হয়েছে। ঘটনায় প্রায় ২২ জন যুবক জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে, যাঁদের অধিকাংশই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বলে দাবি করা হচ্ছে। গুরুতর আহত ওই ট্যাক্সি চালক বর্তমানে চিকিৎসাধীন, আর ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাস্তায় নেমেছেন শতাধিক ট্যাক্সি চালক।
ঘটনার সূত্রপাত অশোকনগরের একটি ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, ট্যাক্সি দাঁড় করানো নিয়ে চালকদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। সেই সময় কথাকাটাকাটির মধ্যেই ওই ট্যাক্সি চালক ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দেন। অভিযোগ, এর পরই পরিস্থিতি দ্রুত হাতের বাইরে চলে যায়। একদল যুবক আচমকাই তাঁকে ঘিরে ধরে মারধর শুরু করে। অভিযোগ, প্রায় আধঘণ্টা ধরে চলা এই হামলায় চালক গুরুতরভাবে আহত হন। স্থানীয় লোকজনের একাংশ এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
আহত চালকের পরিবারের দাবি, মারধরের ফলে তাঁর শরীরের একাধিক জায়গায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। মাথা, পিঠ ও হাতে চোট রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, ঘটনার পর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কড়া পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এই অভিযোগ ঘিরেই আরও বাড়ে ক্ষোভ।
পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে অশোকনগর থানার বাইরে বিক্ষোভে নামেন শতাধিক ট্যাক্সি চালক। বিক্ষোভকারীদের দাবি, দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। তাঁদের বক্তব্য, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা না থাকলে সাধারণ চালকেরা কীভাবে রোজগার করবেন—এই প্রশ্নটাই আজ সবচেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিক্ষোভ চলাকালীন এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা ছড়ালেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
এদিকে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানানো হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার নিয়ে স্পষ্ট কোনও তথ্য সামনে না আসায় ক্ষোভ পুরোপুরি কমেনি। পুলিশের এক আধিকারিক জানান, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই এবং দোষী প্রমাণিত হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তরজা। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, গেরুয়া রাজ্যে সংখ্যালঘু তোষণ ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার জেরে এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে। অন্যদিকে শাসক দলের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর এবং বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়া ঠিক নয়। তারা দাবি করেছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো অনুচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্মীয় স্লোগান বা পরিচয় ঘিরে হিংসা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কর্মক্ষেত্রে সামান্য বিবাদ থেকে এমন চরম সহিংসতায় পৌঁছে যাওয়া সমাজের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে। একই সঙ্গে পুলিশের দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকলে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়। এই ঘটনার পর অশোকনগরে যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, তা প্রশাসনের জন্য বড় পরীক্ষা বলেই মনে করা হচ্ছে।




