
মুম্বই: মুম্বইয়ে এক জনসভায় এআইএমআইএম প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি (Asaduddin Owaisi)বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা অভিযানের উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।
ওয়াইসির কথায়, যদি ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তাঁর নিজের দেশ থেকে ধরে আমেরিকায় নিয়ে যেতে পারেন, তাহলে মোদীজিও পাকিস্তানে গিয়ে ২৬/১১ মুম্বই হামলার মাস্টারমাইন্ডদের ধরে আনতে পারেন না কেন?
গতকাল রাতে আমেরিকার ডেল্টা স্পেশাল ফোর্সেস ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে বড়সড় অভিযান চালায়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে জানান যে, তাঁর নির্দেশে চালানো এই অপারেশনে মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের হেলিকপ্টারে করে ইউএসএস আইও জিমা যুদ্ধজাহাজে তোলা হয় এবং পরে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়।
হঠাৎ কেন কণ্ঠ বন্ধ দিলীপ ঘোষের! নেপথ্যে কি ঘটেছে?
সেখানে তাঁদের বিরুদ্ধে নার্কো-টেররিজমের অভিযোগে মামলা চলবে। ট্রাম্পের দাবি, মাদুরো একটি নার্কো-স্টেট চালাচ্ছেন এবং আমেরিকায় ড্রাগ পাচারের সঙ্গে জড়িত। এই অভিযানকে ট্রাম্প ‘ব্রিলিয়ান্ট অপারেশন’ বলে প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন যে, ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদ আমেরিকা নিয়ন্ত্রণ করবে যতক্ষণ না সেখানে স্থিতিশীল সরকার গড়ে ওঠে।এই ঘটনার পরই মুম্বইয়ে এক নির্বাচনী সভায় ওয়াইসি এই প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “আজ আমরা শুনলাম যে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোর্সেস ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তাঁর নিজের দেশ থেকে ধরে আমেরিকায় নিয়ে গেছে। যদি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তাঁর নিজের দেশ থেকে অপহরণ করতে পারেন, তাহলে প্রধানমন্ত্রী মোদী পাকিস্তানে গিয়ে ২৬/১১ সন্ত্রাসবাদী হামলার মাস্টারমাইন্ডকে ভারতে নিয়ে আসতে পারেন না কেন?”
ওয়াইসি আরও বলেন, “আমরা আপনাকে বলছি মোদীজি, আপনিও পাকিস্তানে সেনা পাঠিয়ে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের ধরে আনুন চাই সে মাসুদ আজহার হোক বা লশ্কর-এ-তৈয়বার কোনো নৃশংস শয়তান।” তিনি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও এই প্রসঙ্গে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, ২৬/১১ হামলার ক্ষত এখনও তাজা। সেই হামলায় ১৬৬ জন নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, অজমল কসাব ছাড়া অন্য কোনো অপরাধীকে শাস্তি দেওয়া হয়নি।
পাকিস্তানে হাফিজ সইদ, মাসুদ আজহারের মতো লোকেরা খোলাখুলি ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কিন্তু ভারত কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে না কেন?ওয়াইসির এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে বলছেন, এটি মোদী সরকারের ‘৫৬ ইঞ্চির ছাতি’-র প্রসঙ্গে একটি তীব্র ব্যঙ্গ।
আবার কেউ কেউ ওয়াইসির কথাকে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকারকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা বলে মনে করছেন। তবে ওয়াইসি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, তিনি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম পদক্ষেপের পক্ষে, এবং ২৬/১১-এর বিচার না হওয়া পর্যন্ত মুম্বাইবাসীর ক্ষোভ থেকে যাবে।










