
ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী (Delhi) সম্প্রতি লিন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (LAC) সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, “আজকের দিনে লিন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের বিষয়ে সতর্ক নজরদারি প্রয়োজন।” তাঁর এই মন্তব্য ভারত-চীন সীমান্তের বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব এবং দুই দেশের মধ্যে শান্তি বজায় রাখতে আলোচনার মাধ্যমে যত্নশীল পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা উজ্জীবিত করেছে।
চীন এবং ভারতের(Delhi) মধ্যে লিন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের সীমান্ত একটি দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা সৃষ্টিকারী এলাকা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে এই সীমান্তে বিভিন্ন রকমের সংঘর্ষ, গুলি চালানো এবং সামরিক উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে। ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে, যা দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি করেছে। তবে, এই পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন, “২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর আমরা যে ধরনের সমঝোতায় পৌঁছেছি, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” এর আগে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কজন বৈঠক করেছেন, যার মধ্যে প্রথমটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল কজান, রাশিয়ায় এবং দ্বিতীয়টি ছিল তিয়ানজিন, চীনে। এর মধ্যে ভারত ও চীনের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের বৈঠক, এসআর-স্তরের আলোচনাও হয়েছিল।
এছাড়া, ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী (Delhi) এবং চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীও দু’বার একে অপরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও দুইবার সাক্ষাৎ করেছেন। এই সব বৈঠক ও আলোচনা দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে চলেছে।
জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী আরও বলেন, “যতই দুই পক্ষের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে, ততই এই সীমান্তে উত্তেজনা বেড়ে যেতে পারে। তবে, দুই দেশের মধ্যে যে ধরনের সহমত ও অঙ্গীকার গড়ে উঠেছে, তার মধ্যে সীমান্তকে শান্ত এবং স্থিতিশীল রাখা প্রধান লক্ষ্য।” তাঁর মতে, ছোটখাটো সমস্যা যেন বড় সমস্যা না হয়ে ওঠে, সেজন্য সেগুলি সেখানে গিয়ে সমাধান করা হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী যোগাযোগের মাধ্যমে এই ধরনের সমস্যা সমাধান করার জন্য সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে চেষ্টা চলছে। সেনা প্রধান আরও বলেন, “বিভিন্ন স্তরে আলোচনা চলেছে, যাতে ছোট বিষয়গুলো সমাধান হয় এবং বড় আকারে উত্তেজনা না বাড়ে।”
ভারত ও চীন সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে জেনারেল দ্বিবেদী কমিউনিকেশন চ্যানেল ওপেন রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, “দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চালিয়ে যেতে এবং সকল স্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে আমাদের মনোযোগ দেওয়া উচিত।” এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি এবং উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টা চলছে। ভারত-চীন সীমান্তের শান্তি এবং স্থিতিশীলতা রক্ষা করা আজকের সময়ে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক সম্পর্ক মজবুত হয়ে থাকলেও সীমান্ত পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে একাধিক পদক্ষেপ প্রয়োজন। ভারতীয় সেনা প্রধানের মতে, ছোটখাটো বিষয়গুলোর প্রতি নজর দেওয়ার মাধ্যমে বড় ধরনের সংঘর্ষ এবং অস্থিতিশীলতা এড়িয়ে চলা সম্ভব। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা এবং সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।










