কিস্তওয়াড়ে সেনা-জঙ্গি মুখোমুখি সংঘর্ষ, এলাকা জুড়ে আতঙ্ক

কিস্তওয়াড়: কাশ্মীরের (jammu and kashmir) কিস্তওয়াড় জেলায় রবিবার সকাল থেকে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। রবিবার সকালে গোয়েন্দা সূত্রে তথ্য পাওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী কিস্তওয়াড়ের(jammu and…

pakistan-landmine-blasts-loc-poonch-infiltration-indian-army-response

কিস্তওয়াড়: কাশ্মীরের (jammu and kashmir) কিস্তওয়াড় জেলায় রবিবার সকাল থেকে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। রবিবার সকালে গোয়েন্দা সূত্রে তথ্য পাওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী কিস্তওয়াড়ের(jammu and kashmir)  জঙ্গলে বিশেষ অভিযান চালায়। খবর পাওয়া মাত্রই সেনারা চৌকসভাবে এলাকায় প্রবেশ করলে, জঙ্গিরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে। পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে সেনাও তৎপর হয় এবং শুরু হয় রুদ্ধশ্বাস গুলির লড়াই।

Advertisements

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সকাল থেকেই পাহাড়ি (jammu and kashmir) এলাকা থেকে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। সেনা-জঙ্গি সংঘর্ষের কারণে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে। বহু পরিবার নিজেদের বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। কিছু এলাকায় মোবাইল এবং ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

   

নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, জঙ্গিদের খোঁজে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত দল অভিযান পরিচালনা করছে। এই অভিযান চলাকালীন সেনারা জঙ্গিদের ধরা বা নিরস্ত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। সেনার কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই জঙ্গি দল দীর্ঘদিন ধরে কিস্তওয়াড় অঞ্চলে সক্রিয় ছিল এবং তারা নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলার পরিকল্পনা করেছিল।

স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই বাসিন্দাদের সতর্ক করে জানিয়েছে যেন তারা নিজেদের বাড়ি বা নিরাপদ স্থান থেকে বের না হন। এলাকায় সেনা মোতায়েন বাড়ানো হয়েছে এবং উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়েছে। কিস্তওয়াড়ের ডিসি জানান, “আমরা এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে চলেছি। বাসিন্দাদের নিরাপত্তা আমাদের অগ্রাধিকার। কেউ বাড়ি থেকে বের হলে তার জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে।”

কিস্তওয়াড়ে (jammu and kashmir)  সেনা-জঙ্গি সংঘর্ষ কোনো নতুন ঘটনা নয়। এর আগে বিভিন্ন সময়ে এলাকায় জঙ্গি কার্যক্রম ধরা পড়েছে। বিশেষত পাহাড়ি অঞ্চলে জঙ্গিরা নিরাপদ আশ্রয় পায় এবং তারা অপ্রত্যাশিত হামলা চালায়। তবে এবার সেনাদের সঙ্গে জঙ্গিদের মুখোমুখি সংঘর্ষ এলাকায় উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।

নিরাপত্তা বাহিনী এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করেছে যে, সংঘর্ষ চলাকালীন তাদের অনেকেই নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছে এবং তারা চেষ্টা করছে কোন ক্ষতি বা জনহানির ঘটনা এড়াতে। সেনারা পাহাড়ি এলাকায় প্রতিটি পাথর, গাছ এবং গুহা অনুসন্ধান করছে। তাদের অভিযান চলাকালীন স্থানীয়দের সহায়তা প্রয়োজন, তবে প্রশাসন বাসিন্দাদের সরাসরি সংঘর্ষস্থলে যাওয়ার জন্য কড়া নির্দেশ দিয়েছে না।

এই সংঘর্ষ কেবল সামরিক মোতায়েনকেই প্রভাবিত করছে না, বরং এলাকায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনও প্রভাবিত হচ্ছে। বাজারপথ বন্ধ, স্কুল-কলেজ বন্ধ এবং পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক এবং উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, কিস্তওয়াড়ে আবারও জঙ্গি কার্যক্রম বৃদ্ধি পেতে পারে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে।

সেনা-জঙ্গি সংঘর্ষ নিয়মিত হওয়ার মূল কারণ হলো পাহাড়ি অঞ্চল, যেখানে জঙ্গিরা সহজে লুকিয়ে থাকতে পারে এবং স্থানীয় জনগণের সহায়তা পাওয়া যায়। সেই সঙ্গে সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থানও জঙ্গিদের অভিযান সহজ করে তোলে। তাই নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য জঙ্গিদের খুঁজে বের করা এবং ধ্বংস করা এক কঠিন কাজ।

এদিকে, কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য প্রশাসন পরিস্থিতি নজরদারিতে রেখেছে। প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হবে এবং নিরাপত্তা বাড়ানো হবে। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সর্তকবার্তা দেওয়া হচ্ছে, যাতে কেউ দুর্ঘটনায় আক্রান্ত না হয়।

এই সংঘর্ষে আরও খবর পাওয়া যায়নি, তবে সেনা সূত্র জানিয়েছে যে, অভিযানের মূল লক্ষ্য জঙ্গিদের ধরা এবং এলাকা পুনরায় নিরাপদ করা। সংঘর্ষ কয়েক ঘণ্টা চলতে পারে, এবং পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে হবে।

কিস্তওয়াড়ের এই সংঘর্ষ আবারও প্রমাণ করছে যে, পাহাড়ি অঞ্চল এবং সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি এখনো তীব্র। নিরাপত্তা বাহিনী এবং প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে, যাতে জনগণ নিরাপদে থাকে এবং জঙ্গিদের কার্যক্রম দমন করা যায়।

 

Advertisements