মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা ও দিল্লিতে একের পর এক নির্বাচনী পরাজয়ের পর কংগ্রেসে (Congress) এক পরিচিত গুঞ্জন শোনা যায়—প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রাকে দেওয়া হোক একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভূমিকা। সেই গুঞ্জন এখন আরও জোরালো হয়ে উঠেছে এবং দলের ভেতরে জনসমক্ষে এমন দাবি উঠতে শুরু করেছে যে প্রিয়াঙ্কা কংগ্রেসে একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় ভূমিকা নিক। প্রিয়াঙ্কা, যিনি দীর্ঘদিন ধরে দলের নেপথ্যে একটি কৌশলবিদ হিসেবে কাজ করেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে এক ফ্রন্টলাইন রাজনীতিবিদ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন এবং তার প্রখর রাজনীতি অনভিজ্ঞদের নজর এড়ায়নি।
কিন্তু প্রশ্ন উঠে, এই দাবি কি তাঁর ভাই এবং কংগ্রেসের বিরোধী নেতা, রাহুল গান্ধীর প্রতি আস্থা কমার ইঙ্গিত দেয়? বিজেপি মনে করছে তেমনই, তাছাড়া কংগ্রেসের ভেতরেও অনেকে এমনই ধারণা পোষণ করছেন। দলের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনীতিতে নির্বাচনী ফলাফল ভালো না হওয়া এবং দলের নেতৃত্বে নতুন দিক নির্দেশনার অভাব প্রায়ই এমন পরিস্থিতি তৈরি করে, যেখানে অন্য সদস্যের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পায়।
এই অগ্নিস্পর্শক মুহূর্ত তৈরি করেছিলেন ওড়িশার সিনিয়র বিধায়ক মোহাম্মদ মককিম। তিনি এক চিঠিতে সোনিয়া গান্ধীর কাছে কংগ্রেসের নেতৃত্বের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং প্রিয়াঙ্কার জন্য একটি বৃহত্তর কেন্দ্রীয় ভূমিকার সুপারিশ করেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করতে পারেননি, যদিও তিনি একজন নির্বাচিত বিধায়ক। চিঠি প্রকাশিত হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে ৬০ বছর বয়সী মককিমকে দল থেকে বের করে দেওয়া হয়। এই ঘটনাটি কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মককিমের চিঠি কেবল ব্যক্তিগত অভিযোগ ছিল না, বরং কংগ্রেসে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে চলমান প্রশ্নের প্রতিফলন।
প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর ভূমিকা নিয়ে সম্প্রতি দলের ভেতরে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। তিনি নেপথ্য কৌশলবিদ হিসেবে অনেক নির্বাচনী পরিকল্পনা সফল করেছেন, কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একটি দৃশ্যমান ভূমিকা না থাকার কারণে তাঁর দক্ষতা পুরোপুরি প্রকাশিত হয়নি। এখন দলের কিছু শীর্ষ নেতা মনে করছেন, প্রিয়াঙ্কাকে একটি বড় কেন্দ্রীয় ভূমিকা দিলে কংগ্রেসের রাজনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার হতে পারে। বিরোধী দল বিজেপি ইতিমধ্যেই এই প্রিয়াঙ্কা বনাম রাহুল মোমেন্টকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তাদের মতে, কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং নেতৃত্বের অস্পষ্টতা দলের অবস্থান দুর্বল করছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় এবং নেতৃত্বের স্পষ্টতা না থাকলে নির্বাচনী ফলাফলের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
কংগ্রেসের ভেতরে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর প্রতি সমর্থন বাড়ছে, যা দলের ভবিষ্যৎ কৌশল এবং নেতৃত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে দল এই মুহূর্তে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বকে পুরোপুরি বাতিল করছে না, বরং দলের জন্য সবচেয়ে কার্যকরী কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নিশ্চিত করার জন্য এই আলোচনা চলছে।
