২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে অসমে কার্যত প্রচারের দামামা বাজিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। সোমবার নগাঁও জেলার বটদ্রবা থানে শ্রীমন্ত শঙ্করদেব আবির্ভাব ক্ষেত্রের উদ্বোধন করে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি। শাহের অভিযোগ, অসমের সংস্কৃতি ও পরিচয় বিপন্ন করে তোলা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নিজেদের ‘ভোটব্যাঙ্ক’ হিসেবে ব্যবহার করছে কংগ্রেস।
অনুপ্রবেশ ইস্যুতে সরব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সোমবার বটদ্রবা থানে এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, “কংগ্রেস সবসময়ই সেইসব অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে দেখেছে, যারা অসমের মানুষ, জমি এবং সাংস্কৃতিক পরিচিতির জন্য হুমকি। কিন্তু বিজেপি সরকার সারা দেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে তাড়িয়ে দিতে বদ্ধপরিকর।” তিনি আরও যোগ করেন, হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সরকার ইতিমধ্যেই কাজিরাঙা ন্যাশনাল পার্ক সহ ১ লক্ষ বিঘা জমি অনুপ্রবেশকারীদের দখলমুক্ত করেছে।
‘গোপীনাথ বরদলৈ না থাকলে অসম ভারতে থাকত না’
ভাষণ দিতে গিয়ে অসমের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী গোপীনাথ বরদলৈয়ের অবদান স্মরণ করেন শাহ। তিনি বলেন, “আজ আমি ভারতরত্ন গোপীনাথ বরদলৈকে শ্রদ্ধা জানাই। যদি তিনি না থাকতেন, তবে আমাদের অসম আজ সমগ্র ভারতের অংশ হতে পারত না। তিনিই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকে অসমকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত রাখতে বাধ্য করেছিলেন।” শ্রীমন্ত শঙ্করদেবকে একজন সমাজ সংস্কারক হিসেবে উল্লেখ করে শাহ জানান, তাঁর আদর্শই উত্তর-পূর্বকে সাংস্কৃতিকভাবে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
২০২৬ নির্বাচনের টার্গেট
অসমের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে অসমবাসীর কাছে শাহের সরাসরি আর্জি, “আমাদের আরও পাঁচ বছর সময় দিন। আমরা অসমকে সম্পূর্ণভাবে অনুপ্রবেশকারী মুক্ত (Infiltrator-free) করে তুলব। অসমের নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক গর্ব বজায় রাখা আমাদের প্রধান লক্ষ্য।” তিনি দাবি করেন, মোদী সরকারের গত ১১ বছরের শাসনকাল অসমের উন্নয়নের ইতিহাসে ‘স্বর্ণযুগ’ হয়ে থাকবে।
এদিন অনুষ্ঠান শেষে অমিত শাহ গুয়াহাটির পুলিশ কমিশনারের নতুন ভবন ও ইন্টেলিজেন্ট সিটি সার্ভেইল্যান্স সিস্টেমের উদ্বোধন করবেন। আজ সন্ধ্যাতেই তাঁর পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসার কথা রয়েছে।
