দক্ষিণের বাম মসনদ ছিনিয়ে নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নয়া চাল

amit-shah-kerala-left-bjp-strategy

কেরলের মসনদ ছিনিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর বিজেপি। আজ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)তিরুবনন্তপুরমে সভা করেন। বিজেপি কর্মীদের উদ্দীপ্ত করে তিনি বলেন কেরলকে পিএফআই, জামায়াত-ই-ইসলামি এবং অন্যান্য দেশবিরোধী শক্তির হাত থেকে বাঁচাতে হবে। এলডিএফ-ইউডিএফের ম্যাচ-ফিক্সিং শেষ করে সত্যিকারের উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং বিশ্বাস রক্ষা করতে হবে।

এবার কেরালায় পদ্ম ফুটবে! মিশন ২০২৬ শুরু হয়ে গেল!রবিবার (১১ জানুয়ারি, ২০২৬) তিরুবনন্তপুরমে সদ্য নির্বাচিত স্থানীয় সংস্থার প্রতিনিধিদের সামনে অমিত শাহের এই ভাষণ কেরলের রাজনীতিতে নতুন আলোড়ন তুলেছে। সকালে তিনি প্রথমে শ্রী পদ্মনাভস্বামী মন্দিরে পুজো দেন, তারপর বিজেপির ‘কেরল বিজয় যাত্রা’র সমাপ্তি অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

   

হিন্দু ভোটারের মন পেতে কোলাঘাটে শুভেন্দুর ওঙ্কার ধাম

এই অনুষ্ঠানে তিনি বিজেপির ‘মিশন ২০২৬’-এর সূচনা করেন, যার স্লোগান ‘উন্নত কেরল চাই’ এবং ‘মারাথাথু ইনি মারুম’ (যা কখনো বদলায়নি, তা এবার বদলাবে)।অমিত শাহ স্পষ্ট করে বলেন, কেরলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন শান্ত মনে হলেও ধীরে ধীরে বিভিন্ন হুমকি উঠে আসছে। পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া (পিএফআই)-কে কেন্দ্র সরকার নিষিদ্ধ করেছে, কিন্তু এলডিএফ ও ইউডিএফ সেই নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করেনি বা নীরবে বিরোধিতা করেছে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এলডিএফ-ইউডিএফ কি কেরলকে জামায়াত-ই-ইসলামি, পিএফআই, এসডিপিআই-এর মতো বিভাজনকারী শক্তির হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে? না পারবে না। এরা তাদের ভোটব্যাঙ্ক। এদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেবে না। কেরালাকে এই বিভাজনের এজেন্ডা থেকে বাঁচাতে পারবে শুধু বিজেপি-এনডিএ।”শাহ সাবরিমালা সোনার চুরির ঘটনাকেও টেনে এনে কটাক্ষ করেন।

তিনি বলেন, যারা সাবরিমালা মন্দিরের ধনভান্ডার রক্ষা করতে পারেনি, তারা কীভাবে কেরালার বিশ্বাস রক্ষা করবে? লফট ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট সরকার অভিযুক্তদের রক্ষা করছে বলে অভিযোগ করে তিনি দাবি করেন, নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে মামলা হস্তান্তর করতে হবে। না হলে বিজেপি প্রতিটি গ্রামে আন্দোলন চালাবে।

বিজেপির উত্থানের ছবি তুলে ধরে শাহ বলেন, ২০১৪ সালে কেরালায় বিজেপির ভোট ১১ শতাংশ ছিল, ২০১৯-এ ১৬ শতাংশ, আর ২০২৪-এ ২০ শতাংশ। “এখন ২০ থেকে ৩০ এবং তারপর ৪০ শতাংশে পৌঁছাতে বেশি সময় লাগবে না। ২০২৬-এ আমরা প্রমাণ করব। এবার কেরালায় বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হবেই।” তিনি সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে তিরুবনন্তপুরম কর্পোরেশনে বিজেপির জয়কে ‘প্রথম ধাপ’ বলে উল্লেখ করেন।

৩০টি গ্রাম পঞ্চায়েত, দুটি পৌরসভা জয় এবং রাজধানীতে মেয়র পদ দখল এসব বিজেপির ক্রমবর্ধমান জনসমর্থনের প্রমাণ।কেরলের উন্নয়নের প্রসঙ্গে শাহ বলেন, এলডিএফ-ইউডিএফ শুধু বিদেশে কাজ করা কেরালাইটদের টাকার উপর নির্ভর করে। কিন্তু যাদের পরিবারে কেউ বিদেশে নেই, তাদের দায়িত্ব কার? বিজেপি-এনডিএ শাসিত রাজ্যগুলোতে সুষম উন্নয়নের মডেল দেখিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

কেরলকেও একমুখী উন্নয়ন ছেড়ে সকলের জন্য উন্নয়ন চাই।এই ভাষণে শাহ কেরলের খ্রিস্টান ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি বিজেপির আউটরিচের কথাও বলেন। তিনি দাবি করেন, বিজেপি সকলের বিশ্বাস রক্ষা করবে এবং কমিউনিজম ও কংগ্রেসের অবক্ষয়ের মধ্যে একমাত্র বিকল্প হয়ে উঠবে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন