কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ (amit shah) শুক্রবার বলেছেন, একসময় অত্যন্ত প্রগতিশীল রাজ্য তামিলনাড়ু ডিএমকে সরকারের নীতির কারণে বিশৃঙ্খলার শিকার হয়েছে। তিনি জানান, জনগণ এই সরকারের উপর অত্যন্ত ক্ষুব্ধ এবং আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এটিকে উৎখাত করতে প্রস্তুত।
শাহ ডিএমকে-কে “তামিল বিরোধী” বলেও আখ্যা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তামিলনাড়ু সরকার এখনও তামিল ভাষায় চিকিৎসা ও প্রকৌশল শিক্ষা শুরু করেনি এবং বইগুলো তামিলে অনুবাদও করেনি। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তামিলনাড়ুতে এনডিএ সরকার ক্ষমতায় আসবে।
ডিএমকে-র নীতির সমালোচনা অমিত শাহের (amit shah)
অমিত শাহ তামিলনাড়ুতে একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতার সময় বলেন, “তামিলনাড়ু একসময় উন্নয়নের পথে এগিয়ে ছিল। কিন্তু ডিএমকে সরকারের ভুল নীতির কারণে রাজ্যটি এখন বিশৃঙ্খলার মধ্যে ডুবে গেছে। জনগণ এই সরকারের উপর ক্ষুব্ধ। তারা এই শাসনের অবসান চায়।” তিনি দাবি করেন, ডিএমকে-র শাসনকালে রাজ্যের অর্থনীতি, শিক্ষা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে পিছিয়ে পড়েছে। শাহ বলেন, “এই সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। ২০২৬-এ জনগণ তাদের ভোট দিয়ে এর জবাব দেবে।”
তামিল ভাষা নিয়ে অভিযোগ
ডিএমকে-কে “তামিল বিরোধী” বলে আক্রমণ করে শাহ বলেন, “তামিলনাড়ু সরকার তামিল ভাষার প্রতি কোনো গুরুত্ব দেয় না। তারা চিকিৎসা ও প্রকৌশল শিক্ষা তামিল ভাষায় শুরু করেনি। এমনকি বইগুলো তামিলে অনুবাদ করার কোনো উদ্যোগও নেয়নি।” তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “যে দল নিজেকে তামিল সংস্কৃতির রক্ষক বলে দাবি করে, তারা কেন তামিল ভাষার প্রতি এত উদাসীন?” শাহ-এর মতে, এটি ডিএমকে-র দ্বিমুখী নীতির প্রমাণ। তিনি আরও বলেন, “এনডিএ ক্ষমতায় এলে তামিল ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান দেওয়া হবে।”
আরো দেখুন গম্ভীরকে অনুকরণ করে চিপকে শাপমোচন আরসিবির!
২০২৬-এ এনডিএ-র সম্ভাবনা
অমিত শাহ (amit shah) তামিলনাড়ুতে এনডিএ-র জয়ের বিষয়ে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তামিলনাড়ুতে এনডিএ সরকার গঠন করবে। জনগণ ডিএমকে-র কুশাসনের বিরুদ্ধে ভোট দেবে।” তিনি দাবি করেন, বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ রাজ্যে উন্নয়ন, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের নতুন দিশা দেবে। শাহ বলেন, “আমরা তামিলনাড়ুকে আবার প্রগতির পথে ফিরিয়ে আনব। এটি আমাদের প্রতিশ্রুতি।”
এআইএডিএমকে-র সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা
তিনি এআইএডিএমকে-র সঙ্গে জোটের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন। ২০২৩ সালে এআইএডিএমকে এনডিএ ত্যাগ করলেও, শাহ জানান, তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। “যদি কোনো ঘোষণা থাকে, তবে তা সঠিক সময়ে জানানো হবে,” তিনি বলেন। শাহ-এর এই বক্তব্য তামিলনাড়ুতে এনডিএ-র রাজনৈতিক কৌশলকে শক্তিশালী করার ইঙ্গিত দেয়।
ডিএমকে-র বংশবাদী রাজনীতি
শাহ বলেন, “ডিএমকে-র বংশবাদী রাজনীতি এবং দুর্নীতির কারণে জনগণ ক্ষুব্ধ। তারা এই সরকারের ব্যর্থতা আর সহ্য করতে চায় না।” তিনি অভিযোগ করেন, ডিএমকে সরকার জনগণের সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে এবং উন্নয়নের নামে শুধু প্রচার চালিয়েছে। “তারা সীমানা পুনর্নির্ধারণের মতো বিষয় তুলে তাদের ব্যর্থতা ও দুর্নীতি ঢাকতে চাইছে,” তিনি যোগ করেন।
শাহ জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP)-র বিরোধিতা নিয়েও ডিএমকে-র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “এটি প্রথম শিক্ষানীতি যা মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার সুপারিশ করে। তামিলনাড়ুতে এটি প্রয়োগ হলে তামিল শিক্ষার মাধ্যম হবে। কিন্তু ডিএমকে এর বিরোধিতা করে তামিল জনগণের সঙ্গে বেইমানি করছে।”
তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
তামিলনাড়ুতে দীর্ঘদিন ধরে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র মধ্যে রাজনৈতিক আধিপত্য চলে আসছে। বিজেপি এবং এনডিএ এই রাজ্যে তাদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ডিএমকে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু শাহ-এর মতে, তাদের শাসনকালে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তিনি বলেন, “ডিএমকে-র সময় শেষ। জনগণ পরিবর্তন চায়।”
এনডিএ-র পরিকল্পনা
শাহ জানান, এনডিএ তামিলনাড়ুতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করবে। তিনি বলেন, “আমরা তামিল সংস্কৃতি ও ভাষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকব। আমাদের লক্ষ্য রাজ্যকে উন্নতির শীর্ষে নিয়ে যাওয়া।” তিনি জনগণের কাছে এনডিএ-কে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
শাহ-এর এই বক্তব্যে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে উত্তেজনা বেড়েছে। ডিএমকে এখনও এর জবাব দেয়নি। তবে, রাজ্যের শাসক দল সম্ভবত শাহ-এর অভিযোগের পালটা জবাব দেবে। এদিকে, বিজেপি ও এনডিএ তাদের প্রচার জোরদার করছে।
অমিত শাহ-এর এই মন্তব্য ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ডিএমকে-র বিরুদ্ধে জনরোষ এবং এনডিএ-র আত্মবিশ্বাস রাজ্যের ভোটের ময়দানে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। তামিল ভাষা ও সংস্কৃতির প্রশ্নও এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।