আন্দামান-নিকোবর নিয়ে বড় ঘোষণা শাহের

amit-shah-andaman-nicobar-economic-contribution

শ্রী বিজয় পুরম থেকে একটি বড় ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তিনি বলেছেন, “আগামী ১০ বছরের মধ্যে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ভারতের অর্থিনীতিতে বড় অবদান রাখবে ” এই মন্তব্য করে শাহ জানিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে এই দ্বীপপুঞ্জকে আর ‘অর্থনীতির বোঝা’ বলে মনে করা হবে না, বরং এটি দেশের অর্থনৈতিক শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হবে।

৪ জানুয়ারি শ্রী বিজয় পুরমে (পূর্বতন পোর্ট ব্লেয়ার) বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস অনুষ্ঠানে এই কথা বলেন শাহ। তিনি মোট ৩৭৩ কোটি টাকার ১১টি প্রকল্পের সূচনা করেন, যার মধ্যে রয়েছে গ্রেট নিকোবরে জিরো পয়েন্ট থেকে ইস্ট ওয়েস্ট রোড প্রকল্প, কনজিউমার কমিশন ভবন, ১৫৫ শয্যার হাসপাতালের প্রথম পর্যায়, ৫০ শয্যার আইসিইউ, ইন্টিগ্রেটেড কন্ট্রোল অ্যান্ড কমান্ড সেন্টার (২২৯ কোটি টাকার) এবং ডিএনএ ও সাইবার ফরেনসিক ল্যাবরেটরি।

   

অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করে জুতোপেটা খেলেন আদিবাসী BLO

এই প্রকল্পগুলো দ্বীপপুঞ্জের পরিকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা এবং পর্যটনকে নতুন মাত্রা দেবে।শাহ বলেন, “আগেকার সরকারগুলো আন্দামান-নিকোবরকে খাজানার উপর বোঝা মনে করত। কিন্তু মোদীজির দৃষ্টিভঙ্গিতে আজ আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি যে, আগামী ১০ বছর পর এই দ্বীপপুঞ্জ দেশের খাজানায় বড় অবদান রাখবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ভারত এখন বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি, এবং দু’বছরের মধ্যে তৃতীয় স্থানে পৌঁছে যাবে।

এই প্রেক্ষাপটে আন্দামানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।এই ঘোষণার পিছনে রয়েছে দ্বীপপুঞ্জের কৌশলগত অবস্থান এবং অপার সম্ভাবনা। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অবস্থিত এই দ্বীপগুলো ব্লু ইকোনমি, পর্যটন এবং মেরিটাইম ট্রেডের জন্য আদর্শ। শাহ ইঙ্গিত দিয়েছেন আন্তর্জাতিক ট্রান্সশিপমেন্ট প্রকল্প, তেল অনুসন্ধান এবং গ্রেট নিকোবরের বড় প্রকল্পের দিকে।

এগুলো দ্বীপকে বিশ্ব বাণিজ্যের হাব এবং কৌশলগত নিরাপত্তার কেন্দ্রে পরিণত করবে। সরকার পর্যটনকে বাড়ানোর জন্য অবকাঠামো উন্নয়নে জোর দিচ্ছে, যাতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য সংরক্ষিত থাকে।শাহ ঐতিহাসিক প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আন্দামান স্বাধীনতা সংগ্রামের তীর্থস্থান।

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ১৯৪৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর এখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। তাঁর সম্মানে দু’টি দ্বীপের নামকরণ করা হয়েছে ‘শহীদ’ ও ‘স্বরাজ’। এছাড়া ২১টি দ্বীপের নাম রাখা হয়েছে পরম বীর চক্র বিজয়ীদের নামে। পোর্ট ব্লেয়ারের নাম বদলে শ্রী বিজয় পুরম করা হয়েছে উপনিবেশিক প্রতীক মুছে ফেলার অংশ হিসেবে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন